জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না সেটা প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এটা তাদের দুজনের (তারেক রহমান ও খলিলুর রহমানের) সিদ্ধান্তে হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন। অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেফতার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেফতার আছে, তাদের বিচারে আওতায় আনতে চায় সরকার। আর সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
এদিকে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর প্রায় এক মাস পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা মঙ্গলবার হাদি হত্যার আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। কলকাতার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’ এলাকায় গত মঙ্গলবার এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুই আসামি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর এ বিষয়ে তাকে ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন’ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল; যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়।
কারণ এটা দেশের ব্যাপার। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতার এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আকাশপাতাল বলে তো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছে, সে পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছে, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস। ভারত সরকার যদি এখন বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে অলরেডি তো এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে। খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং এই যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদের ফেরত এনে এখানে বিচার বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে কিন্তু আমরা সচেষ্ট আছি। এখন আরেকজন, একটা ইলেকশনে হয়েছে আরেকটা দেশে, পাশের দেশে, সেখানে যিনি হেরে গেছেন, তিনি বলছেন তাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে, সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশে আমার কমেন্ট করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাদি হত্যার ব্যাপারে আমার (কাজ) ডিরেক্টলি গভার্নমেন্টের সঙ্গে কারণ আমার যদি এই কালপ্রিটদেরকে ফেরত আনতে হয়, তাদের কিন্তু আমার ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ফেরত আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি খুবই সিরিয়াসলি এবং এটা কিন্তু এগিয়েছে, বেশ ভালো এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকে আগাতে চাই। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে যদি তারা কোনো কথা বলে, তখন সেটা আমরা দেখব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রীর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে জয়লাভ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ডেডিকেটেডলি কাজ করতে হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘে সময় দিতেই হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং আমি মনে করি, তাদের দুজনের সিদ্ধান্তে এটা হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জয়লাভ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অনন্য এক মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের যোগ্যতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি পুরো বিশ্বই বাংলাদেশের ওপর আস্থা রেখেছে। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এখনও বিএনপি কূটনৈতিকভাবে সফল।
সময়ের আলো/আআ