ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বমঞ্চে নতুন নতুন নক্ষত্রের উদয়। যেখানে গতি, ক্ষিপ্রতা আর পায়ের জাদুতে রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন তরুণরা। এবারের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না; বরং এবার বিশ্বমঞ্চে তারুণ্যের হাওয়া লেগেছে একটু বেশিই। বিশ্বসেরা দলগুলোর ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি এবার জায়গা করে নিয়েছেন একঝাঁক ‘কিশোর তুর্কি’।
বয়স বিশের কোটা পার হওয়ার আগেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন তারা। কৈশোরের খোলস ছেড়ে বের হওয়া এই ফুটবলারদের প্রতিভা আর সাহসের ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছেন নিজ নিজ দেশের কোচেরা।
এবারের মেগা ইভেন্টে অন্তত ২০ জন ফুটবলার রয়েছেন যাদের বয়স এখনও ২০ বছর ছোঁয়নি। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব ফুটবলে ইতিমধ্যেই নিজেদের জাত চেনানো এই তরুণদের নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও আগ্রহের কমতি নেই। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে স্কাউটিং ব্যবস্থার উন্নতি এবং একাডেমিগুলোর আধুনিকায়নের ফলে খুব অল্প বয়সেই বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি হচ্ছে। আর তারই দারুণ এক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে।
এবারের আসরে বিশ্বমঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আছেন মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সি মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। মেক্সিকান এই বিস্ময়বালকের পাশাপাশি চেক রিপাবলিক, জার্মানি, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোও তাদের স্কোয়াডে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রতিভাবানদের জায়গা দিয়ে চমক দেখিয়েছে।
অন্যদিকে এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান এবং আরব অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে মিসর, মরক্কো ও তিউনিসিয়ার একঝাঁক কিশোর এবার মরুর বুক থেকে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে প্রস্তুত। আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল কিংবা ইউরোপের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মহাযজ্ঞে পরখ করে নিতে ভুল করেনি, যেখানে তাদের একাধিক অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলার মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন।
তারুণ্যের এই জয়গানে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হিসেবে অবশ্য আলো কাড়ছেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবারসি কিংবা ব্রাজিলের এন্ড্রিক ও রায়ানের মতো ফুটবলাররা। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের হয়ে মাঠ কাঁপানো এই তরুণরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে চেনা নাম। কৈশোরের গণ্ডি না পেরোলেও এবার তারা নিজ নিজ দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নের মূল সারথি। তরুণ এই তুর্কিদের কাঁধে ভর করেই শিরোপা পুনরুদ্ধারের ছক কষছেন ব্রাজিল-স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচেরা।
ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাস সবসময়ই তরুণদের হাত ধরে নতুন রূপ নিয়েছে। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের পেলে কিংবা ২০১৮ সালে কিশোর কিলিয়ান এমবাপের বিশ্বকাপ জয়ের গল্প এখনও ফুটবলপ্রেমী হৃদয়ে দোলা দেয়। চলতি বিশ্বকাপে এই তালিকায় থাকা উদীয়মান ফুটবলাররাও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তা বলাই বাহুল্য। মাঠের গতি, তারুণ্যের উন্মাদনা আর ট্যাকটিকাল লড়াইয়ে এবারের বিশ্বকাপকে রঙিন করে তুলতে এই কিশোর ফুটবলাররা কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/আআ