দেশজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। দিনের বেশিরভাগ সময় তীব্র রোদ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের প্রায় অর্ধশত জেলার মানুষ এখন গরমের চরম ভোগান্তি সহ্য করছেন। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) দেশের ৪৯টি জেলার ওপর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, যেখানে পারদ উঠেছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি স্থানে এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বজ্রসহ এই দমকা হাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। যদিও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির দেখা মিললে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
এএডি/