ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে পঞ্চগড় সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি লাঠি হাতে রাতভর পাহারায় অংশ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভূতপূর্ব চিত্র দেখা যায়।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়। ঝোপঝাড় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি ও স্থানীয়রা হাতে লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে সারারাত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সব কোম্পানি ও বিওপি এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। রাতের আঁধারে নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট এবং নাইট ভিশন গগসসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। কোনো অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকায় দেখা দিলে কিংবা কোনো অবৈধ কার্যকলাপ নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কায়েজ জানান, পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের এই বিশেষ তৎপরতা এবং নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বিজিবি ও জনগণের এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সীমান্ত এলাকা নিরাপদ থাকবে এবং যে-কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/জোই