জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে জার্মানির শোচনীয় পরাজয়কে বার্লিনের নীতির বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি কঠোর তিরস্কার’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি গণহত্যায় মদদ এবং ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধে জার্মানির বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই ভোট মূলত তারই প্রতিফলন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জার্মানিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বার্লিনের আচরণকে অদ্বায়িত্বশীল, ভণ্ডামি এবং অপরাধের সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, জার্মানি ক্রমাগত ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে এবং দেশটি ইসরায়েলের কাছে মারাত্মক সব অস্ত্র সরবরাহকারী অন্যতম প্রধান দেশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের আগ্রাসনের দিকে ইঙ্গিত করে বাঘাই লেখেন, ইসরায়েলি সরকার যখন ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালাল, তখন বার্লিন তার নিন্দা করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। উল্টো তারা নির্লজ্জের মতো সেই হামলাকে নোংরা কাজ, যা ইসরায়েল আমাদের সবার হয়ে করে দিচ্ছে’ বলে বর্ণনা করেছিল।
নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনে জার্মানির এই কূটনৈতিক বিপর্যয়কে বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের হাওয়া হিসেবে দেখছেন এই ইরানি কূটনীতিক। বাঘাই যোগ করেন, বিশ্ব এখন বদলে যাচ্ছে। বিশ্বের জাতিগুলো এখন আর কোনো সরকারের আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ছড়ানো ফাঁপা বুলি দেখে তাদের বিচার করে না, বরং তাদের বাস্তব আচরণ দেখে মূল্যায়ন করে। যারা সময়ের এই পরিবর্তনকে উপেক্ষা করতে চাইবে, তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন ভারী কূটনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে।
/কহু