গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি কওমি মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামে অবস্থিত জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাদরাসার অফিস কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম। দীর্ঘ সময় ধরে ওই শিক্ষার্থীকে জবরদস্তি করা হলে শিক্ষার্থীর চিৎকার ও ছোটাছুটিতে বিষয়টি আশপাশের মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে কক্ষের ভেতর থেকে আটক করেন। মুহূর্তের মধ্যে মাদরাসার সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে যান। ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে গণধোলাই দেন।
আটক রবিউল ইসলাম গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, মাত্র এক মাস আগে তিনি জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রতন মিয়া বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। এলাকাবাসীকে শান্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করি। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকে রেখেছিল এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় যোগাযোগ করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সময়ের আলো/জোই