পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী এলিজা বেগমকে (৫২) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঝিনাইগাতির গজনী এলাকার জঙ্গলে ফেলে রাখেন তারই স্বামী আলমগীর গাজি (৩৬) ও সহযোগী আব্দুল কুদ্দুস (৩৫)। অজ্ঞাত হিসেবে অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর আসামিদের স্বীকারোক্তিতেই বেরিয়ে এলো এমন তথ্য।
শুক্রবার (৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেল আফসান আল আলম। এর আগে ৩ জুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী আলমগীর গাজি।
এলিজা বেগম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোয়াটি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর মেয়ে। হত্যায় জড়িত স্বামী আলমগীর গাজি খুলনার কয়রা উপজেলার জায়গীর মহল গ্রামের মুনসুর রহমান গাজির ছেলে ও সহযোগী আব্দুল কুদ্দুস কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, আলমগীর গাজি পেশায় চিপস ব্যবসায়ী। এলিজা কুড়িগ্রাম আদালতে আইনজীবিদের সঙ্গে মহুরীর কাজ করতেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ে করেন দু’জন। এটি আলমগীরের দ্বিতীয় এবং এলিজার তৃতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আর্থিক ও পারিবারিক কহল লেগেই থাকে। এ কারণে স্ত্রীকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা করেন স্বামী আলমগীর। পরে তারই চিপস বহনকারী ভ্যানচালক কুদ্দুসকে নতুন অটো কিনে দেওয়ার প্রলোভনে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে নেন। ১৩ নভেম্বর আলমগীর স্ত্রীকে গজনি বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে রাজারহাট থেকে আসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পথে চিলমারী ঘাটে তাদের সঙ্গী হয় ভ্যানচালক কুদ্দুস। এলিজাকে হত্যা করতে পথে তারা একটি দোকান থেকে গামছা কিনে। এরপর গজনি ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় কুদ্দুসের আত্মীয় বাড়ি আছে বলে দু’জন মিলে গজনি থেকে একটু দূরে জঙ্গলে নিয়ে যায় এলিজাকে। তারপর দু’জন মিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। তবে ভুলবশত কুদ্দুসের বাটন ফোনটি ফেলে যায় ঘটনাস্থলেই।
গত ১৯ নভেম্বর অর্ধগলিত অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে জব্দৃকত এই ফোনের সূত্র ধরেই ২০ নভেম্বর কুড়িগ্রামের নিজ এলাকা থেকে সেখানকার পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয় কুদ্দুসকে। এরপর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে খবর পেয়ে ততক্ষণে পালিয়ে যায় আলমগীর। দীর্ঘদিন ওঁত পেতে থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১ জুন আলমগীরকেও রাজারহাট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আলমগীর দায় স্বীকার করে ৩ জুন শেরপুরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সময়ের আলো/জোই