নদীতে বিলীন ২শ বসতি পাকা সড়ক আবাদি জমি

গোলাম কিবরিয়া খান, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর এবং চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন

2026-07-21T05:23:08+00:00
2026-07-21T05:23:08+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নদীতে বিলীন ২শ বসতি পাকা সড়ক আবাদি জমি
গোলাম কিবরিয়া খান, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ এএম 
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সংগৃহীত ছবি
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর এবং চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক বসতভিটা, কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নবনির্মিত কোটি টাকার তিন তলা ভবনসহ দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মসজিদ, মাদরাসা, বাজার ও ফসলি জমিসহ জনবসতি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। 

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হুদা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, নিশ্চিন্তপুরে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি কার্যক্রম রয়েছে। এ ছাড়া চরগিরিশে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পাস হলে কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান।

জানা গেছে, আষাঢ় মাসের শুরু থেকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার উপজেলার যমুনা নদীর মেঘাই পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের চর দোরতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া এবং চরগিরিশ গ্রাম। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক বসতি, পাকা সড়ক ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আরও শতাধিক বসতি, বাজার, একাধিক মসজিদ ও মাদরাসা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি। 


গ্রামে অবস্থিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত তিন তলা ভবন যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙনকবলিত নদী তীর হতে মাত্র ১০০ গজ দূরে রয়েছে ভবনটি। চার মাস আগে কোটি টাকার ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বড় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনসাধারণ এবং ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
 
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   নদী  বিলীন  ২শ বসতি  পাকা সড়ক  আবাদি জমি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: