কাজুবাদাম খুব পুষ্টিকর খাবার। শরীর সুস্থ রাখতে আমরা অনেকেই এটি খেয়ে থাকি। তবে, অসতর্ক ব্যবহারে কাজুবাদাম মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে!
কাজুবাদামের দুটি জাত রয়েছে - একটি মিষ্টি, অন্যটি তেতো স্বাদযুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেতো কাজুবাদামের ভেতর সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড নামে একটি বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা শরীরে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। প্রতিটা তেতো কাজুবাদামের ভেতর ৬ মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে। কারও শরীরে তা ১০০ মিলিগ্রাম পরিমাণ প্রবেশ করলে, সেই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে কাঁচা তেতো কাজুবাদাম খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
কাজুবাদামের ভেতর ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ফাইটোকেমিক্যালস, ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি থাকে। নিঃসন্দেহে এটি পুষ্টিকর। তবে, অতিরিক্ত পরিমাণ কাজু বাদাম খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।
কাজুবাদামে ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেশি। এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্থূলতা ও রক্তে শর্করার মাত্রায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগীদের কাজু বাদাম খাওয়া উচিত নয়। মনে রাখবেন, স্থূলতা নিজে কোনও রোগ না হলেও অনেক রোগ তৈরির কারণ।
কাজুতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলে কিডনিতে পাথরের সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারও যদি ইতোমধ্যেই কিডনির সমস্যা থাকে, তাহলে কাজু খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
কাজুবাদামে অনেক ফাইবার থাকে। বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পর পানি কম পান করলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। কারণ, ফাইবার সঠিকভাবে দ্রবীভূত করার জন্য পানি প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে শরীরে ফাইবার বেশি থাকলে, তা পানি শোষণ করে। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
এ ছাড়া কাজুতে থাকা আয়রন কোষে জমা হয়। পরিমাণে বেশি হলে, তা কোষের কাজকে প্রভাবিত করে। যদি এটি ফুসফুসের কোষে জমা হয়, তাহলে হাঁপানির লক্ষণ দেখা যায়। এতে মানুষের নিঃশ্বাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
কাজুবাদাম যদি সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে তা অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, আপনার একটু অসতর্কতা হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই সচেতনভাবে কাজুবাদাম ব্যবহার করুন।
/মহু