প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে দেশের ফল রফতানি খাত রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই বাংলাদেশ ফল রফতানি করে আয় করেছে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে আয় বেড়েছে ৮২ শতাংশেরও বেশি।
আমই এখনো রফতানি বাজারের প্রধান চালিকাশক্তিরফতানিকারকরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে আমই দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য-সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশীয় আমের বড় ক্রেতা।
এর পাশাপাশি পেয়ার, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও কলার মতো মৌসুমি ফলও বিদেশি বাজারে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন
কয়েক বছরের ব্যবধানে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধিইপিবির তথ্য বলছে, ফল রফতানির প্রবৃদ্ধি গত কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী।
২০২২-২৩ অর্থবছর : ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার
২০২৩-২৪ অর্থবছর : ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার
২০২৪-২৫ অর্থবছর : ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার
২০২৫-২৬ (১১ মাস) : ১২.৩ কোটি ডলার
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর রফতানি খাতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী বাজারই মূল ভিত্তিচাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, দেশের ফল রফতানির বড় অংশই প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরণ করছে।
তার ভাষায়, ‘আমরা এখনো আন্তর্জাতিক মূলধারার ফল বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারিনি। কারণ প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং মান নিয়ন্ত্রণে আরও উন্নতি প্রয়োজন।’
অবকাঠামো উন্নয়নে সম্ভাবনা বাড়ছেইপিবি কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফল উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফি চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা জানান, আধুনিক প্যাকিং শেড, কোল্ড-চেইন ও ফসলোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা বাড়ানো গেলে রফতানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
লজিস্টিকস ও উচ্চ খরচ এখনো বড় চ্যালেঞ্জঅগ্রগতি থাকলেও রফতানিকারকদের সামনে এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়েছে পরিবহন ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।
উচ্চ বিমান ভাড়া
কার্গো স্লট সংকট
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহনের অভাব
শুল্ক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘ঢাকাকেন্দ্রিক সেবা ব্যবস্থার কারণে রফতানি খরচ বাড়ছে। বিভাগীয় পর্যায়ে এসব সুবিধা থাকলে খাতটি আরও গতিশীল হতো।’
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বলরফতানিকারকদের ধারণা, আমের মৌসুম পুরোদমে চলায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় চলতি অর্থবছরের শেষে ফল রফতানি আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নীতি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে বাংলাদেশ অচিরেই বৈশ্বিক ফল রফতানি বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
এএডি/