‘শুধু ফাঁসির রায় ঘোষণা করলেই হবে না, তা কার্যকরও করতে হবে- তবেই আমরা কিছুটা ন্যায়বিচারের স্বাদ পাব।’
রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার দিন আদালত এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই শাস্তি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য চলবে না। তার মতে, বিচার কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কখনোই প্রকৃত শান্তি পাবে না।
আব্দুস সালাম বলেন, সরকারকে এমন আইন প্রণয়ন করতে হবে যেখানে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর থাকবে না। তার আশঙ্কা, বিচার দীর্ঘায়িত হলে অনেক মামলার মতো তার ছেলের হত্যার ঘটনাও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার পরও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তিনি হতাশ। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য- সবই তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না।’
আরও পড়ুন
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানান, তার ছেলে মিরাজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, ছোট ভাইদের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ- সবই তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মিরাজ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকায় একটি মোবাইল দোকানে কাজ করতেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনের সময় মিরাজ গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকে একাধিকবার বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবারটি। তবে এখনো মামলার অগ্রগতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন।
আব্দুস সালাম বলেন, তার একমাত্র লক্ষ্য এখন ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তিনি চান, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
তার ভাষায়, ‘বিচার শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও দেখতে চাই। না হলে আমরা কেউই নিরাপদ না।’
এএডি/