রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক রায় ঘোষণাকে রাষ্ট্রের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার (৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা, প্রসিকিউশন, আদালত এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকার কারণেই এত অল্প সময়ে মামলাটির বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, আলোচিত এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের নথি উচ্চ আদালতে পৌঁছানোর পর দ্রুত শুনানি ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন
এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থদণ্ডও নির্ধারণ করেন। আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিদের সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থ আদায় করা হবে।
মামলার তদন্ত নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে নিজ এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর কৌশলে তাকে আসামিদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে নির্মম নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়। শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে এবং অপরজনকে রাজধানীর বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষ করে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত চার্জশিট দাখিলের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তীতে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এএডি/