দেশে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটলেও এখনই গরম থেকে বড় ধরনের স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়লেও অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে বর্ষার আগমনের পরও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।
সোমবার (৮ জুন) দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সাতক্ষীরা অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে বৃষ্টি হলেও তা হবে বিচ্ছিন্ন আকারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ উপকূল দিয়ে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক সপ্তাহ দেরিতে এ বছরের মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চল ও দক্ষিণ উপকূলের কিছু এলাকায় এর প্রভাব বিস্তার শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও তা এখনই সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে পারছে না। এ কারণে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে তাপমাত্রাও খুব একটা কমছে না। রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও কয়েকটি স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির কাছাকাছি ছিল। যদিও বিস্তৃত এলাকায় তাপপ্রবাহ না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাপপ্রবাহের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও গরমের তীব্রতা অনেকের কাছে একই রকম অনুভূত হতে পারে।
রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের ধারণা, ঢাকার আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হলেও রাজধানীর ভেতরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
রোববার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপপ্রবাহ না থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি ছিল বেশ অস্বস্তিকর। ফলে বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী।
এএডি/