রাজধানীর ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যের মধ্যে শিশু হাফসা আক্তার (৮) ও তার মামা শাহিন (২৪) মারা গেছেন। এ ঘটনায় শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিন মারা যান। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যায় তার ভাগ্নি হাফসা আক্তার।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে ফাহিমা আক্তারের শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা চলছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নতুন বাজারের ১০০ ফুট সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহিন, তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার এবং ভাগ্নি হাফসা আক্তার দগ্ধ হন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, শাহিন একটি কাপড়ের শোরুমে চাকরি করতেন। ভোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, বাসার ভেতরে থাকা তিনজনই আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। পরে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
তার ভাষ্য, বাসাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস ঘরে জমে ছিল। ভোরে রান্নার সময় বা অন্য কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এদিকে দগ্ধ ফাহিমার চাচি শামীমা সুলতানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে তারা ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। শুরু থেকেই বাসায় গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। বিষয়টি জানালে বাড়িওয়ালা একবার পাইপ মেরামত করলেও পরে কয়েকবার গ্যাস লিকেজ হলেও আর কোনো ব্যবস্থা নেননি। তার দাবি, বাড়িওয়ালার অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সময়ের আলো/এসএকে