লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় তেগাছিয়া সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে দীর্ঘ এক বছর ধরে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। রামগতি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগ মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বর্ষা মৌসুমের জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে চরগাজী ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের ওপর নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে যায়। এরপর থেকেই তিন উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
চরগাজী ইউনিয়ন, টাংকি বাজার, হাতিয়া বাজার ও বয়ারচরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্থানীয়রা সেতুর ভাঙা অংশে কাঠের পাটাতন দিয়ে কোনোমতে হেঁটে যাতায়াত করলেও সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
টাংকি বাজার মাছঘাট ও তেগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মালবাহী গাড়ি সরাসরি ঢুকতে না পারায় পণ্য একাধিক ধাপে বা ঘাটে পরিবর্তন করে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সড়কটি সচল না থাকায় স্থানীয় কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আটটি মাদরাসার শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সংযোগ সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে মূল সেতুটিও ধসে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ জানান, সড়কটির স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই