দেশে ধীরে ধীরে সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ইতোমধ্যে এটি দেশের তিনটি বড় বিভাগ- বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পুরো দেশই বর্ষার আওতায় চলে আসতে পারে।
এই বর্ষা সক্রিয়তার প্রভাবে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই দেশের অন্তত ১৪টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন
ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রবেশ করেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজকের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে বর্ষার আগমন সত্ত্বেও দেশের কিছু অঞ্চলে এখনও মৃদু তাপপ্রবাহ বিদ্যমান রয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা অঞ্চলে এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তা কিছু এলাকায় বিস্তার লাভ করার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্ষা সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে আবহাওয়ায় এক ধরনের মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করবে- একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে আর্দ্র গরম।
এএডি/