শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত দুই বড় কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে জারি থাকা ফ্লোর প্রাইস (নূন্যতম সীমা) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
মঙ্গলবার (০৯ জুন ২০২৬) ডিবিএর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
ডিবিএ জানায়, পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইসজনিত অচলাবস্থা দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক করতে গত ০৪ মে ২০২৬ তারিখে বিএসইসির কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছিল।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় বিক্রেতারা স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছিলেন না। এর ফলে বাজারের স্বাভাবিক মূল্য আবিষ্কার (Price Discovery) প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি বাড়ছিল এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল।
ডিবিএর আবেদন ও বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএসইসির নতুন কমিশন এই দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিবিএর মতে, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে, লেনদেন পুনরুদ্ধার করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে বাজারের স্বার্থ পরিপন্থি এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করা বিধি-বিধানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। এর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক, টেকসই ও আস্থানির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ডিবিএ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কমিশনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সময়ের আলো/জেডি