কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে মাদক পাচারের সাথে জড়িত তিন কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোররাত ও সকালে বিজিবির পৃথক দুটি ব্যাটালিয়ন এই অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে উখিয়া ৬৪ বিজিবির পালংখালী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুজ্জা খাল লক্ষ্মণের ঘের নামক স্থানে পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে আসতে দেখে বিজিবি চ্যালেঞ্জ করে।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিরা তাদের সাথে থাকা পাঁচটি পোটলা ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ফেলে যাওয়া পোটলাগুলো থেকে প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী ৫৫টি কাটে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।
উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, টেকনাফ ২ বিজিবি পৃথক আরেকটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ জন মাদক কারবারিকে আটক এবং ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় গোপন তথ্য আসে যে মিয়ানমার থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাযোগে ইয়াবার একটি বড় চালান টেকনাফ বিওপি’র আওতাধীন জিন্নাখাল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এই সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নির্দেশনায় জিন্নাখাল এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয় বিজিবির একটি আভিযানিক দল।
সকাল আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে নৌকাটি নাফ নদীর কিনারায় পৌঁছালে বিজিবি টহল দল সেটিকে অবরুদ্ধ করে। পরে নৌকাটি তল্লাশি করে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং নৌকায় থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— সাব্রাং দক্ষিণ নয়াপাড়া এলাকার মো. হারুনুর রশিদের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম (১৯), মোক্তার আহমদের পুত্র আ. হোসেন (৩৫) এবং মোহাম্মদ সাব্বির আহমদের পুত্র মোহাম্মদ সোয়াইব (১৮)।
এছাড়া এ ঘটনায় একই এলাকার নুরুদ্দিনের পুত্র আশাদুল (২৫) নামের একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আনিফুর রহমান জানান, আটককৃত আসামি ও জব্দকৃত ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি