ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নের পৈলানপুটি গ্রামে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়া এবং বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাহিদ শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিচার দাবিতে অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পৈলানপুটি গ্রামে জাহিদ শেখের বাড়ির সামনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জাহিদ শেখ বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন। তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বাড়ির সামনেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিপন মীরের অভিযোগ, জাহিদ শেখ তার কাছে বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পরও নির্ধারিত জায়গা তার নামে দলিল করে না দিয়ে জাহিদ শেখ ইতালিতে চলে যান। এখন তিনি টাকা ফেরত কিংবা চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তির মালিকানা বুঝে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
শিপন মীরের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাড়ির জায়গা ও নির্মাণকৃত একটি বিল্ডিংসহ সম্পত্তির মূল্য ৩৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে জাহিদ শেখ ইতালিতে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিম মল্লিকের অভিযোগ, তাকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে জাহিদ শেখ ১০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নানা ধরনের সময়ক্ষেপণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তা পরিশোধ না করেই জাহিদ শেখ ইতালিতে চলে যান বলে দাবি করেন নাসিম।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে পাঠানোর আশ্বাসে তারা জাহিদ শেখকে টাকা দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা জটিলতার মুখে পড়েছেন। এতে একাধিক ব্যক্তি ও পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার টাঙিয়ে দেন। এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতারণার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই বাড়ি ছাড়বেন না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ও সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জাহিদ শেখ বলেন, তাদের সঙ্গে আমার টাকা-পয়সার লেনদেন রয়েছে। তবে আমি তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছি। কিছু টাকা দেওয়াও হয়েছে। কিন্তু তারা আমাকে সময় দিতে ইচ্ছুক নয়। তারা আমার বাড়ি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
জাহিদ শেখ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, টাকা পরিশোধের জন্য তিনি সময় নিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই