চট্টগ্রামকে ভবিষ্যতে সমগ্র অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর, ফ্রি জোন ও বিস্তৃত লজিস্টিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় চুয়েটকে তার প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশলগত সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। ঢাকায় যে ধরনের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো করছে, চুয়েটকেও তার সক্ষমতা অনুযায়ী সেসব কাজে প্রতিযোগিতা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের সক্ষমতা ও বিশেষায়িত দক্ষতা সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।
শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা ছাড়া গবেষণাকে বাস্তব অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া কঠিন। বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্ভাবন কেন্দ্র সিলিকন ভ্যালির পেছনেও বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতে ধারাবাহিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এখানে ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং অবকাঠামোও তৈরি হয়েছে। এখন বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। ইনকিউবেটরটি বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা ও কার্যকর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমির খসরু বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় সরকার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে দক্ষতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে। চুয়েটসহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী ও স্মার্ট। তবে তাদের জন্য উন্নত গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা, দক্ষ শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক্সপোজারের সুযোগ আরও বাড়াতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, সেই কাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কতটা ভালো হচ্ছে সেটিও যাচাই করতে হবে। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, গবেষণা ও উদ্ভাবন কীভাবে হচ্ছে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কেমন এসব বিষয়ে চুয়েটকে নিয়মিত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, গবেষণাগার, গবেষক ও প্রকাশনার মধ্যে কার্যকর সংযোগ থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন বাস্তব অর্থে দৃশ্যমান হয় এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করতে আগ্রহী। কারণ অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত অধিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। চুয়েটের যে বিশেষায়িত সক্ষমতা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার সহযোগিতা করবে।
এসময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবন ও গবেষণার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও গবেষণাকে বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সময়ের আলো/এনএন/আতা