কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনের জামাল কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে ওয়ালটন ও ভিশন শোরুমসহ অন্তত ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আহত দুজনের অবস্থা গুরুতর।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে জামাল কমপ্লেক্সে আগুন লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কমপ্লেক্স ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আগুন নেভাতেও তারা সহযোগিতা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কমপ্লেক্সের ছেহের মিয়ার রঙের দোকানে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে দ্রুত আশপাশের দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আগুনের খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে উখিয়া ও রামু থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম সোহেল বলেন, ‘কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় আব্দুল মালেকের ওয়ালটন ও ভিশন শোরুম ছিল। অগ্নিকাণ্ডে শোরুম দুটিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কমপ্লেক্সে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখা, রঙ ও হার্ডওয়্যার দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুনে নিচতলার অন্তত ১০টি দোকান পুড়ে গেছে।’
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছেহের মিয়ার রঙের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে টেকনাফের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে উখিয়া ও রামুর আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়।’
তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত করে নির্ধারণ করা হবে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
সময়ের আলো/জেডি