ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম দফতরি না থাকায় নিরাপত্তা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০১৩ সালে প্রথম ধাপে ৩০ জন দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে আর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লোকবল সংকটের কারণে দুজনকে ডেপুটেশনে আনা হয়। সম্প্রতি উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দরজার তালা কেটে চুরি, চরজিতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাউটার চুরি, বিল রাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রিল কাটার চেষ্টা ও ধামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়ার কারণে শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে যেসব শিক্ষক থাকেন তারা রাতের বেলায় ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
বর্তমানে মিড ডে মিলের খাবার, সাউন্ড বক্স, রাউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম, আইপিএস ও ইন্টার অ্যাকটিভ ফ্লাট প্যানেল ৭৫ ইঞ্চি টিভিসহ আরও অনেক মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যেসব প্রতিষ্ঠান নিরিবিলি জায়গায় অবস্থিত সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে আতঙ্ক বেশি বলে জানান সহকারী শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের মালামাল রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বলা যায় রাতের বেলায় এসব মালামাল প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে কিছু প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন বিভিন্ন সমস্যার কারণে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আপাতত এই পদে নিয়োগ দেওয়া সারা দেশেই বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসলেই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
নৈশপ্রহরী বাবুল মিয়া ও আবু সাঈদ মো. সেলিম জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে চুরি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বাচ্চাদের মাঝে ঝগড়া নিয়ন্ত্রণে সহজ হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত মিড ডে মিলের খাবার সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
৩১ নং ছোট রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হজরত আলী বলেন, আমরা স্কুলে রক্ষিত মালামাল নিয়ে আতঙ্কে থাকি। রাতের বেলায় কখন মালামাল চুরি হয়ে যায় বলা মুশকিল। শুধু মালামাল পাহারা নয়, উপজেলা অফিসে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাঠানো সম্ভব। লোক না থাকায় প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারী শিক্ষককে ক্লাস ফেলে রেখে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। এই পদে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি