রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

আদালত প্রতিবেদক

আইন-আদালত

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সাজা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথিপত্র

2026-06-09T21:41:53+00:00
2026-06-09T21:42:53+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আইন-আদালত
রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম  আপডেট: ০৯.০৬.২০২৬ ৯:৪২ পিএম  (ভিজিট : ৪০)
বিকেলে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে এই ডেথ রেফারেন্সের নথি পাঠানো হয়। সংগৃহীত ছবি
আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সাজা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথিপত্র হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে এই ডেথ রেফারেন্সের নথি পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

আইনি নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্টের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই মামলার এজাহার, চার্জশিট, আলামত জব্দ তালিকা, ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং রায়ের কপিসহ সমস্ত দলিলপত্র একত্রিত করে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে গত ৭ জুন আলোচিত এই মামলায় দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই অর্থদণ্ডের টাকা নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সময়ে এই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র চার দিনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়ার পর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে গত ২ জুন মাত্র এক দিনেই ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছিলেন আদালত।


উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয়েছিল পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় প্রতিবেশী স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন। দীর্ঘ সময় রামিসাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর কাটা মাথা দেখতে পান। 

পরে ট্রিপল নাইনের (৯৯৯) মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই নৃশংস ঘটনার পর রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফাতারের পর আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   রামিসা হত্যা মামলা  মৃত্যুদণ্ড  অনুমোদন নথি  হাইকোর্টে 


Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: