অর্থ সংকটেও বাজেট অন্তর্ভুক্তিমূলক

এসএম আলমগীর

জাতীয়

দুই দশক পর সরকারে এসে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

2026-06-10T01:44:20+00:00
2026-06-10T01:44:20+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জাতীয়
অর্থ সংকটেও বাজেট অন্তর্ভুক্তিমূলক
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:৪৪ এএম   (ভিজিট : ১৪)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দুই দশক পর সরকারে এসে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এবারের বাজেট প্রণয়নে নতুন সরকারকে বহুমুখী চাপের বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। একদিকে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভর্তুকি ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চাপ। 

তবে এসব চাপের মধ্যেও সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থাৎ সবার উপযোগী বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ‘সবার জন্য বাজেট’ প্রণয়নের আভাস দিয়েছেন। 

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক মানুষকে মাথায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কাউকে বাইরে রাখা হবে না।’

এবারের বাজেটে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে ব্যাপক করছাড় ও ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিনির্ভর ও বিলাসী কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে কিছু পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, সরকারের নতুন করনীতির মূল লক্ষ্য দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, স্থানীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা। 
এ কারণে কয়েকটি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ অথবা বিদ্যমান করহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বাজেটের শিরোনাম চূড়ান্ত করতে এখনও বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। অর্থমন্ত্রীর টেবিলে পাঁচটি সম্ভাব্য শিরোনাম রয়েছে। এগুলো হলো- ‘অর্থনৈতিক বিনিয়ন্ত্রণকরণ, সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘মানবিক কল্যাণমূলক ও উৎপাদনমুখী দেশ : কর্মসংস্থান, সুশাসন ও সমতায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘বৈষম্যহীন, টেকসই ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয়’ এবং ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন : ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির নতুন বাংলাদেশ’। 

এর মধ্য থেকে একটি শিরোনাম বাজেট বক্তৃতার বইয়ে স্থান পাবে। বাজেট-সংক্রান্ত অন্যান্য বই ছাপার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাজেটের দর্শন হিসেবে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন’ ধারণাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা কয়েকটি গোষ্ঠীতে কেন্দ্রীভূত না রেখে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধারণাকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’ বা ডিরেগুলেশনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজেটের আকার ও লক্ষ্য : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ব্যবসা সহজীকরণ, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতির আকার বা জিডিপি ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের ধীরগতি। তাই নতুন বাজেটে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, কৃষি, রফতানি, প্রবাসী আয় এবং অবকাঠামো খাতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তবে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ঘাটতি অর্থায়নের কাঠামো। মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদবাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে। ফলে নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

থাকবে বহুমাত্রিক চাপ : বাজেটসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক চাপের মুখে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক নানা ধাক্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

এ প্রেক্ষাপটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব ও অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকেই উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত মনে করছেন। তবে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। এ ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা এবং ৫ হাজার কোটি টাকার অনুদান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

খাদ্য খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি, বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হচ্ছে। জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। 

পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বিকাশে বিশেষ তহবিল ও প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন বেতনের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা : অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে তারা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে পরবর্তী অর্থবছরে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ভাতাসহ পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। নতুন বেতন কমিশনের হিসাবে সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে : প্রস্তাবিত বাজেটে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও ওয়াটার হিটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্যে শুল্ক কমানো হতে পারে। ফলে এগুলোর দাম কমতে পারে।

এ ছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মনিটরের দাম কমতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ১৫টি পণ্য এবং চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত কিছু সামগ্রীর শুল্কও কমানো হতে পারে। এর মধ্যে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার রয়েছে। স্বর্ণালংকার বিক্রিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে : অন্যদিকে সিগারেটের সব স্তরের মূল্যসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ, সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল এবং নিকোটিনের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। ফলে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

এ ছাড়া দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। কাজুবাদাম আমদানির শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। উচ্চমূল্যের আমদানি করা হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, এমএস রডসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যে অতিরিক্ত কর-ভ্যাট এবং বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসপণ্য ও কিছু আমদানি করা খাদ্যপণ্যে নতুন করে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়তি বরাদ্দ : দরিদ্র, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এই বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সংখ্যা ৯৫ থেকে কমিয়ে ৯০টিতে আনা হলেও কয়েকটি নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক কোটি নতুন মানুষকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এক কোটি পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে ৪১ লাখ পরিবারকে নির্বাচিত করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

‘ফার্মার্স কার্ড’-এর আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৬৬৯ জনকে আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী মাসে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হবে। নিহত ৮৪৪ জনের পরিবার পাবে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা।

ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, ভিক্ষু এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়কদের জন্য সম্মানী ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন এ সুবিধা পাবেন।

ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১৫ লাখ দরিদ্র কর্মজীবী মানুষকে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৫ হাজার বেকার শ্রমিককে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত মাসে ৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ করে বাড়ানো হচ্ছে এবং ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে মাসে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হচ্ছে।

ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তার বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একজন রোগীর সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সাধারণ ভাতা অপরিবর্তিত থাকলেও বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে। বর্তমানে এ চার শ্রেণিতে ৫৮৯ জন ভাতা পাচ্ছেন।

/এসএকে


  বিষয়:   অর্থ  সংকট  বাজেট  অন্তর্ভুক্তিমূলক  সংসদ  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: