ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন একটি দাবি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
অনসন্ধানে জানা গেছে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যম কিংবা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে এমন কোনো তথ্যের ভিত্তি বা প্রজ্ঞাপন নেই। ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৬ ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদের প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও আইনগতভাবে যেকোনো যোগ্য নাগরিক এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গত ২২ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নির্ধারণের বিষয়ে একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী তাদের রিটে উল্লেখ করেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালতের বিচারিক দায়িত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন, যার জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিকেই বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইনি কাঠামো ও আদালতের আগের নির্দেশনা পর্যালোচনা করেই কেবল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনদ বাধ্যতামূলক করার সংক্রান্ত যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া।
সময়ের আলো/জেডি