মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পঞ্চম নৌবহর’ (Fifth Fleet) ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বুধবার (১০ জুন) সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস’ (আইআরজিসি) এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতেই বাহরাইনের ওই ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন দিয়ে এই জোরালো হামলা চালানো হয়েছে এবং বর্তমানেও এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে সোমবার (৮ জুন), যখন হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘অ্যাপাচি’ সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানই বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করা ছাড়াও আন্তর্জাতিক জলসীমায় পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক উস্কানিমূলক আক্রমণের উপযুক্ত ও ‘সমানুপাতিক’ জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে আমেরিকার এই দাবিকে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অজুহাতে আজ ভোরে ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সিরিক অঞ্চলের একটি যোগাযোগ টাওয়ার (টেলিযোগাযোগ মাস্তুল) এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়ে গেছে।”
বিপ্লবী গার্ডস তাদের বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানিয়েছে, বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরে চালানো এই ড্রোন হামলাটি কেবল শুরু। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের এই অন্যায় ও উস্কানিমূলক সামরিক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে আগামীতে তাদের আরও বড় এবং অত্যন্ত কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে অবস্থিত এই পঞ্চম নৌবহরকে আমেরিকার অন্যতম প্রধান সামরিক স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে এই বাহরাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছিল তেহরান।
সময়ের আলো/জেডি