লিবিয়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর আলমগীর হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবকের নির্মম মৃত্যুসংবাদ এসেছে দেশে। পরিবারের অভিযোগ, চাওয়া অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাড়িতে আলমগীরের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারজুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) ওই গ্রামের প্রয়াত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি গত সাত বছর ধরে লিবিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলমগীর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের পোশাক পরা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের ভাই ও লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীরকে উদ্ধারের জন্য তারা লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। সন্ত্রাসীদের ওই গোপন আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি কয়েকজন বাংলাদেশি বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পান।
মুক্ত হওয়া প্রবাসীরা জানান, আলমগীরের কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু তা দিতে না পারায় প্রায় এক মাস আগেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের লাশ শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
নিহত আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী তাদের কাছে সরাসরি মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ করেই এই মৃত্যুর খবর আসে। আলমগীরই ছিলেন পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় স্ত্রী ও তার পরিবার।
সময়ের আলো/জেডি