যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আবারও সরব হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটির দাবি, এই চুক্তি অবিলম্বে পর্যালোচনা করে চলমান জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির সাধারণ সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় সংসদের কাছে একটি খোলাচিঠি জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এতে তারা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই সংসদে এ বিষয়ে দ্রুত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।
আরও পড়ুন
এ সময় জাতীয় বাজেট নিয়েও মতামত তুলে ধরে অধিকার কমিটি। সংগঠনটির মতে, দেশের উৎপাদনশীল খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা মানবিক সংকট তৈরি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয় সভায়। বক্তারা বলেন, আলোচিত কিছু ঘটনার দ্রুত বিচার হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ফলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। অধিকার কমিটির নেতারা মনে করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেন। তাদের মতে, মূল্যবৃদ্ধির চাপের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালু, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের দাবিও জানানো হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে অধিকার কমিটি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এতে চিকিৎসক, শিক্ষক, শ্রমিকনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এএডি/