যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর মাঠে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’র পর্দা ওঠার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মেক্সিকো সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র জনবিক্ষোভ। বিক্ষোভের জেরে রাজধানী মেক্সিকো সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি মেট্রো রেলের ১০টিরও বেশি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মাঠের সেই আনন্দের আবহকে ছাপিয়ে এখন রাজপথে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
মেক্সিকো সিটি মেট্রো কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্টেশনগুলোর বাইরে ব্যাপক ‘বিক্ষোভ প্রদর্শন’ চলার কারণে সাধারণ যাত্রী ও মেট্রোর নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া ১০টিরও বেশি স্টেশন মূলত মেক্সিকো সিটির ডাউনটাউন বা কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লাইন ১, ২ এবং ৩-এর অন্তর্ভুক্ত।
মেক্সিকোর অন্যতম বড় শিক্ষক সংগঠন ‘ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর অফ এডুকেশন ওয়ার্কার্স’-এর হাজার হাজার সদস্য বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন সংস্কারের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। মেক্সিকান সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জানানো হয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তবে সরকারের দাবি, এই আন্দোলনের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রাজনৈতিক স্বার্থ’ কাজ করছে এবং আন্দোলনকারীরা ইচ্ছা করেই বৈশ্বিক এই ফুটবল আসরের ইমেজ ‘ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা’ করছে।
শিক্ষকদের পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা। টেক্সটিটলান মেট্রো স্টেশনের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও সরকারি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন শত শত বিক্ষোভকারী। আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে স্টেডিয়াম অভিমুখে একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই মেট্রো স্টেশন এলাকাতেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কটাক্ষ করে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন— মেক্সিকো ফুটবল নয়, বরং মানুষ নিখোঁজ করার দিক থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন! সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোজুড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার কোনো হদিস দিতে পারেনি প্রশাসন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ ট্রেনে চড়ে শহরের মূল চত্বর ‘এল জোকালো’-র দিকে রওয়ানা হয়েছেন সেখানে বড় ধরনের সমাবেশের উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের চারপাশের রাস্তাগুলোতে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীরা উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যুর কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারেন।
/কহু