ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পদত্যাগ করেছেন—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত পদত্যাগপত্রকে ঘিরে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভারতের সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষরসংবলিত একটি কথিত পদত্যাগপত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সব ধরনের দায়ভার গ্রহণ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়াই বহু ব্যবহারকারী সেটি শেয়ার করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন; জানায়, বিষয়টি নিয়ে ভারতের সরকারি তথ্য সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে স্পষ্ট জানায়, নরেন্দ্র মোদির নামে প্রচারিত পদত্যাগপত্রটি সম্পূর্ণ জাল। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি কিংবা এ ধরনের কোনো পদত্যাগপত্র ইস্যুও করা হয়নি।
পিআইবি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য বা নথি শেয়ার করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করারও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, এসব অ্যাকাউন্টের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা এবং উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরি করা। তাই সম্পাদিত ভিডিও, ভুয়া নথি কিংবা অপরিচিত উৎস থেকে প্রচারিত পোস্টে বিশ্বাস না করার পাশাপাশি যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সময়ের আলো/এসএকে