পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সম্ভাব্য লংমার্চ এবং অন্য বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী এবং অ্যাটক জেলায় ৩০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ বিক্ষোভ মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য ৯ হাজার অতিরিক্ত সদস্য চেয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাটকে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করতে বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত সদস্য আসতে শুরু করেছেন।
বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে প্রবেশ ঠেকাতে দুই শহরের ৩০টি প্রবেশপথ বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি রাওয়ালপিন্ডিতে। এ জন্য বিপুলসংখ্যক কনটেইনার জব্দ করে মহাসড়কের পাশে ও খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী, কিষান ইত্তেহাদ ও পিটিআই আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত করের প্রতিবাদে লংমার্চের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ করবে। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার দাবিতে ইসলামাবাদমুখী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে কিষান ইত্তেহাদ।
ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে দায়িত্ব পালনের জন্য ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে। আট ডিআইজি, ১০ এসএসপি, ৪০ এসপি ও ৫৮ ডিএসপির তত্ত্বাবধানে তাঁদের মোতায়েন করা হবে। এসব কর্মকর্তার জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়াকে পাঞ্জাবের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ জেলা অ্যাটকে নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩০ হাজার সদস্য আনা হচ্ছে। শেইখুপুরা, ডেরা গাজি খান, মুলতান ও ফয়সালাবাদসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি পাঞ্জাব কনস্ট্যাবুলারি, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের সেখানে পাঠানো হচ্ছে।
রাওয়ালপিন্ডি জেলায় পুলিশ সদস্যদের সব ধরনের ছুটি ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সিপিও হাসান মুশতাক সুকেরা এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছেন। এতে চরম জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নৈমিত্তিক ও অর্জিত ছুটিও বাতিলের কথা বলা হয়েছে।
ইসলামাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে বাইরে থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৬২ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের জন্য রাজধানীর ১৩টি হোটেল ও গেস্টহাউসে ১৩২টি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে।
আট ডিআইজির জন্য মেলোডি জি-৬ এলাকার ইসলামাবাদ হোটেলে এবং ১০ এসএসপির জন্য ব্লু এরিয়ার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪০ এসপিকে বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে রাখা হবে। এ ছাড়া ৫৮ ডিএসপি ও ২৪৬ পরিদর্শকের জন্য বিভিন্ন গেস্টহাউসে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রদেশ থেকে ইসলামাবাদে আসা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) সদস্যদের থাকার জন্য সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিয়ের হল ও পুলিশ স্টেশন ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচ