আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তান থেকে এক দিন আগে চালানো ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ভোরে

2026-09-24T13:06:56+00:00
2026-09-24T13:06:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৬ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
আফগানিস্তান থেকে এক দিন আগে চালানো ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ভোরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ তথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে সুনির্দিষ্ট বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব স্থান থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণ করা হতো।’

তারার দাবি করেন, হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট, পরিমিত ও আনুপাতিক। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো হামলার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত সামরিক স্থাপনাগুলোতেই হামলা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

বুধবারের ড্রোন অনুপ্রবেশকে ‘ইচ্ছাকৃত ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এটি ‘গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন’।

তারার বলেন, আফগানিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র থাকার বিষয়ে পাকিস্তান আফগান তালেবানের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দেওয়া ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তালেবান ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক ড্রোন অভিযান’ চালিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বুধবারের হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারী সব ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ ও ধ্বংস করেছে। ফলে সেগুলো কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কিংবা আফগান তালেবান—কারও হামলাই পাকিস্তান মেনে নেবে না। দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় ‘তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তারার আরও বলেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, জনগণ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অধিকারকে কোনো হুমকি, অস্বীকার বা দায় এড়ানোর চেষ্টা সীমিত করতে পারবে না।

কাবুলকে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উত্তেজনা বাড়াতে চায় না বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে এই অবস্থানকে দুর্বলতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করার সীমাহীন ইচ্ছা হিসেবে না দেখার সতর্কবার্তা দেন।

আট ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
পাকিস্তানের এই হামলা চালানোর আগে বুধবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা আটটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। ড্রোনগুলো তোরখাম সীমান্ত ও কোহাটের কাছে প্রবেশের পর ভূপাতিত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগের রাতেও কুররামে আফগান তালেবানের গুলিবর্ষণ এবং সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘পরিমিত’ বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই হামলায় ২৮ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়।

এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনসে হামলায় ২৩ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হন। পরে রাতভর অভিযানে আট সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানান, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘গজব লিল হক’।

বাড়ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা
সীমান্তে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান বারবার আফগান তালেবান প্রশাসনের প্রতি আফগান ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানা, বিশেষ করে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক বৈঠকে আফগান ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বন্ধে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, আফগান তালেবানের টিটিপিকে অব্যাহত সমর্থন পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ও প্রাণঘাতিতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনে টিটিপি, আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান ও বেলুচ লিবারেশন আর্মির মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   পাকিস্তান  আফগানিস্তান  বিমান হামলা  ড্রোন হামলা  আফগান তালেবান  আতাউল্লাহ তারার  ইশাক দার  পাকিস্তান-আফগানিস্তান  সীমান্ত সংঘাত  টিটিপি  সন্ত্রাসবাদ  গজব লিল হক 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: