অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘সবার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ বাজেট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; এটি দেশের সব মানুষের জন্য বাজেট। সবার প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক, নারী, শিল্পী, থিয়েটারকর্মী, কামার-কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই, যাদের কথা এবারের বাজেটে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা মূলত পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ছিল। কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থেকে গেছে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট করি না, করার ইচ্ছাও নেই। এমন কোনো বাংলাদেশি নেই, যিনি এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকবেন। কেউ বেশি সুবিধা পাবেন, কেউ কম পাবেন; কিন্তু প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনকে আমরা বিবেচনায় নিয়েছি।
তিনি জানান, সীমিত সম্পদ ও নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরির চেষ্টা করেছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও রোডম্যাপ থাকে। তার দাবি, এবারের বাজেট শুধু নীতিমালার ঘোষণা নয়; বরং বাস্তবায়নের পথনকশাও যুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র্যাব বা প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে। তার ভাষ্য, দেশে অনুমোদন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, ব্যাংকঋণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। এসব খাতে সংস্কার আনতে পারলে মূল্যস্ফীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে তাদের বেতন কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেটে কোন খাতে কত চাকরি হবে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকলেও কোন কোন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে দেশ ও বিদেশ দুই জায়গাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এবারের বাজেটে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য দারিদ্র্য ও আয়-বৈষম্য কমানো এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নত করা।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে যুক্ত করা হয়নি। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা উপকারভোগীদের তালিকা করেছেন। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় সুবিধা কোনো দলের জন্য নয়; নাগরিকদের জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’কে বাজেটের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ কারুশিল্প, তাঁত, শীতলপাটি, সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার এবং অন্যান্য সৃজনশীল খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা সহায়তা, অর্থায়ন ও বাজারসুবিধা বাড়িয়ে আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান এবং পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু নীতিমালা ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে যেসব বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন তদারকির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ওয়েবসাইট চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের ভাবনা, চিন্তা ও দর্শন ভিন্ন। ‘রুল বেজড অর্ডার’ থেকে বিশ্ব সরে এসেছে, যুদ্ধ নতুন করে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। ফলে প্রপার অর্থনীতিতে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। অবিঘাত বেশি এসেছে জ্বালানি খাতে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে পাচার ও লুটপাটের কারণে ঘাটতি ও কষ্ট অব ফান্ডের অভাবে মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বাজেট প্রণয়নে সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। অতীতে অর্থনীতি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব এখন নিয়মভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ সুরক্ষাবাদী (প্রটেকশনিস্ট) ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে : অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে। অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, কমার কথা। কারণ অভাব থাকলে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। ১১ বছর ধরে নতুন বেতনকাঠামো হয়নি। অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এগুলোকে তো ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে, তাই না? আশা করা হচ্ছে, বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে আমাদের স্লোাগান হচ্ছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। আগে অর্থনীতি ছিল কিছু গোষ্ঠীর জন্য। সেই জায়গা থেকে অর্থনীতিকে আমরা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। এ কারণে প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তায় রেখে বাজেট করা হয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই।
আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী। এতে বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ একজন শ্রমিকের জন্য দেশের পাশাপাশি বিদেশেও চাকরি পাওয়া সহজ হবে। এ জন্য দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না : উচ্চ পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব-পুলিশ কিংবা কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের ওপর নির্ভর না করে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি, বাজার ব্যবস্থার দক্ষ পরিচালনা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাজারে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সামগ্রিক বাজার সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক অদক্ষতা দূর করা, অতিরিক্ত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যয় কমানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত কাঠামোগত সংস্কারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই।
পূর্বাচলে ১৬০ একরে হবে বিশ্বমানের ক্রিয়েটিভ সেন্টার : অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতকে অর্থনীতির একটি নতুন ও শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ১৬০ একর বিশাল জায়গাজুড়ে একটি বিশ্বমানের সমন্বিত ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, থিয়েটার, শিল্পকলা, আধুনিক ডিজাইন স্টুডিও, বিনোদন কেন্দ্র ও নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল কেন্দ্রটি শুধু মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রই তৈরি করবে না, বরং সংস্কৃতিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও আয়মুখী শিল্পে রূপান্তর করে লাখো তরুণের কর্মসংস্থান ও পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করছে।
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে মৌজার রেটের যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম থাকে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হওয়ায় অনেক উদ্যোগ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মৌজার রেটের বিষয়টা যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা অনেক কাজ করছি। যেহেতু আমরা সময় পাইনি, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে। অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি। মৌজার রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার ওপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজার রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে চাচ্ছি।
একই অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, বায়াররা ডেভেলপারের কাছ থেকে একটা ফ্ল্যাট কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয়েছে দুই কোটি টাকায়। আমাদের ট্যাক্সের লোডের জন্য তাকে গিয়ে আবার চেজ করতে হয়। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন। এখন এটার ওপর এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, সেখান থেকে একটু রিলিফ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, যদি তারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, তা হলে রেগুলার ট্যাক্সের সঙ্গে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত দিয়ে দেখাতে পারবেন। আর যাদের নিজের টাকা আছে, অলরেডি যার ট্যাক্স দেওয়া টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে আর কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এ রকম একটা প্রভিশন আছে। বাট এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।
অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে ৪ থেকে ৫ বছর লাগবে : এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগবে।
এএডি/