আলোচিত টিএফআই সেল গুম-নির্যাতন মামলার বিচারিক কার্যক্রমে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হতে যাচ্ছে আজ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এদিন একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত ৩ জুন ওই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ১৪ জুন দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন
মামলার বিচারিক নথি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।
টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে গ্রেফতার অবস্থায় ঢাকার সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন।
আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম। এছাড়া কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেমও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে মামলার সাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক আদালতের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এএডি/