সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সেই প্রত্যর্পণ আবেদন করার পাশাপাশি অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সেরে দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রোববার (১৪ জুন) বেনজীরের আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমদকে সেখানকার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে আটক আছেন।’
তিনি বলেন, ‘বেনজীরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই আমিরাতের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।’
এর পরের প্রক্রিয়া তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে।’
প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।’
রেড নোটিশ থাকলে কী হয়
অনেকের মধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ নিয়ে সাধারণভাবে একটি ভুল ধারণা আছে— এটি যেন আন্তর্জাতিক গ্রেফতার পরোয়ানা। বাস্তবে তা নয়। রেড নোটিশ হলো ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর কাছে একটি অনুরোধ, যাতে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আটক করা যায়। এর ভিত্তি হতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা বিচারিক আদেশ।
অর্থাৎ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হওয়া এবং দুবাইয়ে তার গ্রেফতার— দুটি বড় ধাপ পার হয়েছে; কিন্তু তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাতের আদালত।
বাংলাদেশকে এখন প্রমাণ করতে হবে, বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়; এটি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে দেখাতে হবে, বাংলাদেশে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
/কেএইচও