ইরানের আলোচনাকারী দলের প্রধানের কৌশলগত উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকৃতি পাবে।
তিনি একটি অডিও বার্তায় ১৪ দফা খসড়া চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে, যার জন্য ফি আদায় করা হয়।
তার মতে, এই ফি আদায়ের একমাত্র অধিকার ইরান ও ওমানের, অন্য কোনো পক্ষের এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। এটি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তিতেও অপরিবর্তিত থাকবে।
মোহাম্মাদি জানান, খসড়ার প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, সব ফ্রন্টে—ইরান ও লেবাননসহ সব যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এরপর প্রতিপক্ষকে নতুন কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু না করার অঙ্গীকার করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিশ্রুতি নিজে এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও দেবে।
তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর অন্য পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
তার দাবি, এটি একটি বড় অর্জন এবং প্রমাণ যে প্রতিপক্ষ যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
মোহাম্মাদি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমনভাবে কাজ করত যে ওয়াশিংটন চুক্তি করলেও ইসরায়েল স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে পারত। নতুন খসড়ায় সেই সুযোগ রাখা হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতিও পারস্পরিক হবে—অন্য পক্ষ বাধ্যবাধকতা পূরণ না করলে ইরানও করবে না, প্রয়োজনে আলোচনা বন্ধ বা যুদ্ধের পথেও যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে শিপিং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল নিয়েও তিনি কথা বলেন, যা যুদ্ধের ক্ষতি পূরণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
তিনি জানান, চূড়ান্ত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে মূল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও থাকবে।
তবে তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্যকর হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি মূলত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অন্যান্য বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তার দাবি, ইরান তার ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম “ডাইলিউশন” বা পাতলা করার মাধ্যমে দেশের ভেতরেই রাখতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে পরে আবার ব্যবহার করা যাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে থাকবে—যা তিনি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
/ইউএমএইচ