নেপালে তুষারধসে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় নয় মাস পর পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান মিলেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বিদেশি এবং দুজন নেপালের নাগরিক। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো মরদেহগুলো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (৮ আগস্ট) স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গৌরিশঙ্কর গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান বিস্বাস কার্কি জানান, গত বছরের নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই পাঁচ পর্বতারোহী। তাদের মধ্যে ইতালি-কানাডার দ্বৈত নাগরিক একজন, জার্মানির একজন এবং ইতালির একজন নাগরিক রয়েছেন। বাকি দুজন নেপালের নাগরিক।
গত বছরের নভেম্বর মাসে চীনের সীমান্তের কাছে ৫ হাজার ৬৩০ মিটার (১৮ হাজার ৪৭১ ফুট) উচ্চতার ইয়ালুং রি পর্বতের নিচের অংশে তুষারধসের কবলে পড়েন তারা। এরপর থেকেই তাদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে আসছিল।
কার্কি জানান, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বরফের নিচে পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান পান। অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে দীর্ঘদিন মরদেহগুলো বরফের নিচে চাপা পড়ে ছিল।
তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাদের উদ্ধারে অভিযান চললেও ওই এলাকায় প্রচুর তুষারপাত হওয়ায় মরদেহগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মরদেহ উদ্ধারে এরই মধ্যে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনোজ কুমার লামা জানান, শুক্রবার ঘটনাস্থলে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মরদেহগুলো সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
নেপাল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতারোহণের গন্তব্য। বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের মধ্যে আটটির অবস্থান দেশটিতে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্বতারোহী ও পর্যটক নেপালে আসেন।
তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, তুষারধস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে পর্বতারোহণে ঝুঁকিও রয়েছে। হিমালয়ান ডেটাবেজের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে নেপালের বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে তুষারধসে।
নয় মাস ধরে নিখোঁজ পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান পাওয়ায় দীর্ঘ অনুসন্ধান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে এলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অপেক্ষা।
সময়ের আলো/কেএইচও