যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা তার প্রশাসনের সময়ে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় খুব বেশি ভিন্ন বা উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন না।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, নতুন যে কোনো চুক্তি আমাদের করা আগের চুক্তির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা বা ভালো হবে— এটা সন্দেহজনক। সেই চুক্তি দীর্ঘ সময় কার্যকর ছিল, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সেখান থেকে সরে দাঁড়ায়।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ওবামা ইরানের সঙ্গে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) বা পরমাণু চুক্তি সম্পাদন করেন। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে নির্দিষ্ট সীমা মানতে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে ইরানের তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং জব্দ থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হয়।
যদিও চুক্তিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তা বিতর্কিত ছিল।
২০১৭ সালে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওবামার করা চুক্তিকে ‘বোকামিপূর্ণ চুক্তি’ বলে আখ্যা দেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ওবামা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে একটি বোকামিপূর্ণ চুক্তি করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন অর্থ দিয়ে ইরানকে রাজি করানো যাবে।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, জেসিপিওএ কার্যকর থাকার সময়ও ইরান অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিল এবং চুক্তিটি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ রোধ করতে পারেনি।
তবে ওবামা মনে করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগই ইরান সংকট সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তিনি বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত। এমন চুক্তি করা সম্ভব, যা হয়তো সমস্যার শতভাগ সমাধান করবে না, কিন্তু ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমাধান দিতে পারে এবং যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে।
ওবামা আরও বলেন, আমাদের এত দিনে এই শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল যে সব সমস্যার সমাধান যুদ্ধ নয়। কিন্তু মনে হচ্ছে, সময়ের পর সময় আমাদের সেই শিক্ষা আবার নতুন করে নিতে হচ্ছে।
/ইউএমএইচ