যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি বড় চুক্তি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এই হামলা করা উচিত হয়নি, বিশেষ করে এমন এক বিশেষ দিনে যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলাম।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং লেবানন— সব পক্ষই এখন এমন এক পর্যায়ে আছে যেখানে একটি বড় শান্তিচুক্তি প্রায় স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি, যা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি আনতে পারে। সব পক্ষেরই এখন উত্তেজনা কমানো উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশেষ দিনে কোনো পক্ষেরই আর হামলা চালানো উচিত নয়।
তার ভাষায়, ইসরায়েলের উচিত লেবাননের কোথাও আর হামলা না চালানো, একইভাবে হিজবুল্লাহসহ অন্য কোনো পক্ষেরও ইসরায়েলে হামলা করা উচিত নয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটি একটি দীর্ঘ ও সুন্দর শান্তির শুরু হতে পারে— এটা নষ্ট করা উচিত নয়।
এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি পূরণে অনিচ্ছুক, নয়তো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা তাদের নেই।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও মাঠপর্যায়ের সামরিক পরিস্থিতি পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের হামলা হিজবুল্লাহর ক্ষুদ্র হামলার জবাবে চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্প সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, ওই হামলা ছিল ‘খুবই ছোট ও গুরুত্বহীন’, যাতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষতি হয়নি।
তিনি মনে করেন, এমন হামলা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা উচিত নয়।
এদিকে ট্রাম্প শনিবারই ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি রোববার স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের এই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে কিছু অবরোধ শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে সবচেয়ে জটিল ইস্যু—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—পরবর্তী ধাপের আলোচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে একই সঙ্গে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার মতো ঘটনাগুলো পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
/ইউএমএইচ