ইরানকে চাপে রাখবেন, নাকি বড় যুদ্ধ এড়াবেন ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি দ্বীপ লারাকে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

2026-09-01T22:40:07+00:00
2026-09-01T22:40:55+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানকে চাপে রাখবেন, নাকি বড় যুদ্ধ এড়াবেন ট্রাম্প?
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ১০:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ছবি : সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি দ্বীপ লারাকে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নানা উপাত্ত ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে ইরানের ওপর চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাইছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে নতুন করে মাইন পেতে না পারে, সে লক্ষ্যেই লারাক দ্বীপে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাইয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য মার্কিন হামলা।

Advertisement
একই সময়ে ওয়াশিংটন নতুন করে অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। তবে সেই পদক্ষেপের প্রকৃত পরিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বড় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা, লক্ষ্য মিসরের ব্যাংক

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে একটি প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত এর লক্ষ্য হয়েছে মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ‘ব্যাংক মিসর’।

ব্যাংক মিসর আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার ট্রিলিয়ন ডলারের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট।

এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাকে অনেকটা ‘গর্জন বেশি, কামড় কম’ ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং এর ফলে সাধারণ ইরানিদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে এবং তেহরানের অর্থনীতিও আরও সংকটে পড়বে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ ইরানকে ট্রাম্পের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে কিংবা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যাবে—এমন জোরালো প্রমাণ এখনো নেই।


নির্বাচন পর্যন্ত ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’?

বিশ্লেষণে বরং ট্রাম্পের জন্য অন্য একটি কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হলো আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন মাত্রায় ধরে রাখা।

অর্থাৎ, এমন পরিস্থিতি বজায় রাখা যেখানে বড় কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা হবে না, আবার সংঘাতও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হবে না।

এর পেছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প চাইতে পারেন, ইরান যেন আগামী কয়েক মাস বড় ধরনের সংবাদ শিরোনাম হয়ে না ওঠে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে তার ইরান যুদ্ধের সম্পর্কও যেন নির্বাচনের আগে দুর্বল হয়ে যায়।

এই অর্থে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কর্তৃত্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি তৈরি করছে এবং তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাড়তে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের তুলনায় তেহরানের জন্য বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তবে তা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি যে ইরান তৎক্ষণাৎ বড় ধরনের সামরিক পাল্টা আক্রমণে যাবে।

বরং এটি ধীরগতির অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল, যার লক্ষ্য আগামী দুই মাস বড় কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা কিংবা সামরিক উত্তেজনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।


তেহরানের সামনে এখনো আতঙ্কের কারণ নেই

এই পরিস্থিতিতে তেহরানের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ‘প্যানিক’ তৈরি হয়নি। ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে ওয়াশিংটন পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, সামনে অন্তত তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


প্রথম সম্ভাবনা: অতিরিক্ত চাপ থেকে বড় সংঘাত

প্রথম পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হিসাবের বাইরে গিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা ইরানের সহ্যসীমা অতিক্রম করবে।

লারাক দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলাই ইতিমধ্যে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যদি ট্রাম্প চীনগামী ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

সে ক্ষেত্রে তেহরান হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ করিডোর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা জোরদার করতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

চীনও এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

ফলে এমন এক সামরিক উত্তেজনা তৈরি হবে, যা ট্রাম্প আগামী দুই মাস এড়িয়ে চলতে চাইছেন।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা: চাপ থাকবে, পাল্টা হামলা নয়

দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানকে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণে উৎসাহিত করবে না। একই সঙ্গে তেহরানের মধ্যমেয়াদি কৌশলেও বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ইরানের হিসাব হলো—প্রচার ও রাজনৈতিক বক্তব্য যা-ই থাকুক, হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা তাদের এখনো যথেষ্ট কার্যকর। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে আরও বাস্তববাদী অবস্থান নিতে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে।

ট্রাম্প এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি করতে চান না—এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ইরান কেন আঞ্চলিক কূটনীতিতে এতটা সক্রিয়, এই কৌশল থেকেই তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

ওমান-পাকিস্তান-কাতারের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বর্তমানে ওমান, পাকিস্তান ও কাতারের কূটনীতিকরা তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি এমন বার্তা দিয়েছেন যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবে না। এমনকি আগের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার পক্ষেও তিনি নন।

নির্বাচন পর্যন্ত ইরানকে সংবাদ শিরোনাম থেকে দূরে রাখতে চাইলে ট্রাম্পের জন্য দৃশ্যমান কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক অগ্রগতি এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করছে।

প্রথমত, তেহরান নিজের জনগণের কাছে এই বার্তা দিতে পারছে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য আমেরিকার একগুঁয়েমিই দায়ী, ইরানের নমনীয়তার অভাব নয়। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এবং বেসামরিক মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়লে এই বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রকাশ্যে কূটনীতি প্রত্যাখ্যানের অবস্থান তেহরানের এই প্রচেষ্টাকে আরও সহজ করছে।

দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও ইরান নিজের অবস্থান শক্ত করছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে উপসাগরীয় দেশগুলো। ফলে সেই দেশগুলো কার ওপর যুদ্ধের দায় চাপাচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইরান দেখাতে চাইছে, তারা আলোচনায় প্রস্তুত; বিপরীতে ট্রাম্পই আলোচনায় রাজি নন।

তৃতীয়ত, এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমাধান ও নীতির ভিত্তিতে একটি ঐকমত্য গড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে ট্রাম্প আলোচনায় ফিরলে যাতে একটি প্রাথমিক চুক্তির কাঠামো প্রস্তুত থাকে, সেটিই তেহরানের আরেকটি লক্ষ্য।

অর্থাৎ, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে কূটনৈতিক সুযোগ এড়িয়ে গেলেও অঞ্চলটি যে অগ্রগতি করছে, ভবিষ্যতে সেটিকে নস্যাৎ করতে গেলে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।


তৃতীয় সম্ভাবনাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত?

তবে সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হয়তো তাৎক্ষণিক বড় যুদ্ধ কিংবা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দ্রুত কূটনৈতিক সমঝোতা—কোনোটিই নয়।

বরং ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান কৌশল কিছুটা সফল হতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজের দক্ষিণ অংশে জাহাজ চলাচল বাড়ার ফলে এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানই বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

এই চাপ ধীরে ধীরে তেহরানের অবস্থানকে আরও দুর্বল করতে পারে—অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা হামলা চালাবে। বরং তেহরান হয়তো সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে পারে।

যদি ওয়াশিংটন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চায়, তাহলে ইরান হিসাব করতে পারে—কংগ্রেস নির্বাচনের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে পাল্টা আঘাত হানাই সবচেয়ে কার্যকর হবে। এতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।


পাল্টা হামলা শুধু হরমুজেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কেবল হরমুজ প্রণালির তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ইরানি কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মধ্যে এমন ধারণাও রয়েছে যে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব যা-ই হোক, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যেতে পারে।

তেহরানের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বা বিরতি শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধেই কাজ করবে। তাই নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি ইরানের বিবেচনায় থাকতে পারে।


দুই দফা যুদ্ধ থেকে ইরানের শিক্ষা

ইরান ইতোমধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের দুই দফার অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহ পেয়েছে।

প্রথম দফার যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল ৩৮ দিন। দ্বিতীয় দফা চলেছিল মাত্র ১৩ দিন। কিন্তু সময়ের হিসাবে দ্বিতীয় দফা প্রথমটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও ওই পর্বেই অর্ধেকের বেশি আমেরিকান হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এটি ইঙ্গিত করে, মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও তীব্র হয়েছিল। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দফার লড়াই থেকে ওয়াশিংটনের তুলনায় তেহরান বেশি শিক্ষা নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান তাদের আক্রমণের আধুনিকতা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরান কয়েক দশক ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে। এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তেহরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করেছে।

নির্বাচনে ট্রাম্প হারলে কী হবে?

তবে এখানেই ইরানের জন্য বড় একটি ভুল হিসাবের ঝুঁকি রয়েছে।

ইরান যদি ধরে নেয় যে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০২৭ সালে ট্রাম্প আরও সংযত হয়ে যাবেন, তাহলে সেই হিসাব ভুল হতে পারে।

নির্বাচনে পরাজিত এবং তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া একজন ট্রাম্প হয়তো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে যাবেন। কিন্তু সেই চাপই তাকে বিদেশে আরও আগ্রাসী হওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নির্বাচনী বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে ট্রাম্প এমন কিছু ঝুঁকি নিতে পারেন, যা এখন তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর মতো চরম পদক্ষেপও থাকতে পারে।

২০২০ সালের অভিজ্ঞতাই বড় সতর্কবার্তা

ইতিহাসও এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে কিছু ইঙ্গিত দেয়।

২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল। সে সময় জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি আশঙ্কা করেছিলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন।

তৎকালীন সময়ে ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তাবও তুলেছিলেন। মিলি সেই প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সতর্ক করে দেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এখন তাই বড় প্রশ্ন হলো—মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ বলয়ে মার্ক মিলির মতো এমন কেউ থাকবেন কি না, যিনি তাকে আরও বড় ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন।

এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন-ইরান সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্য ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির বিশ্লেষণ অবলম্বনে।


সময়ের আলো/কেআই

  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  যুক্তরাষ্ট্র  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: