হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে শিপিং গোয়েন্দা সংস্থা মেরিস্কস ও কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পৃথকভাবে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা হয়।
মেরিস্কস জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার করিডরে প্রায় একই সময়ে দুটি হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি নির্দেশ করছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার দুই ট্যাংকারই গত সপ্তাহে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছিল। আগস্টে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবারও তেল লোড ও বিক্রি শুরু করে।
হামলার প্রথম ঘটনায় সৌদি পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘সিদর’ ওমানের খাসাব বন্দরের প্রায় ১৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কয়েক মিনিট পর লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরেকটি ভিএলসিসি খাসাবের প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে তিনটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতের শিকার হয়। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও একই এলাকায় হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার চেষ্টা হলেও এখন পর্যন্ত তা সফল হয়নি। হামলার পর মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়।
সময়ের আলো/কেএইচও