হোয়াইট হাউসে কুস্তির উৎসব শেষে জি-৭ সম্মেলনে কোণঠাসা ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রঙিন উৎসবের পরের দিনটি যেমন বিষাদময় ও ক্লান্তিকর হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটছে। ওয়াশিংটনের বিলাসবহুল আয়োজন

2026-06-16T18:56:22+00:00
2026-06-16T18:57:40+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হোয়াইট হাউসে কুস্তির উৎসব শেষে জি-৭ সম্মেলনে কোণঠাসা ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম  আপডেট: ১৬.০৬.২০২৬ ৬:৫৭ পিএম  (ভিজিট : ১৫)
ছবি : সংগৃহীত
রঙিন উৎসবের পরের দিনটি যেমন বিষাদময় ও ক্লান্তিকর হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটছে। ওয়াশিংটনের বিলাসবহুল আয়োজন আর খাঁচাবদ্ধ কুস্তির (ইউএফসি) উন্মাদনা শেষে এখন তার সামনে কেবলই ‘হ্যাংওভার’ বা অবসাদের ঘোর। আজীবন মদ্যপান থেকে দূরে থাকা ট্রাম্পের রোববার রাতটি কেটেছে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক উৎসবে। নিজের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ চত্বরে যুদ্ধবিমানের মহড়া আর পেশাদার কুস্তিগীরদের রক্তক্ষয়ী মারামারি উপভোগ করেছেন তিনি। একই সাথে ইরানের সাথে যুদ্ধাবসানের এক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে ট্রাম্প কিছুটা বাড়িয়েই দাবি করেছেন, তিনিই ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন।

কিন্তু সেই আনন্দের রেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দেশের মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্যে হিমশিম খাচ্ছে, তখন হোয়াইট হাউসে এমন গ্ল্যাডিয়েটর স্টাইলের বিলাসবহুল মারামারির আয়োজন করায় চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের সেই সব তীর্যক মন্তব্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সোমবার ভোর সোয়া ৩টায় যখন এয়ারফোর্স ওয়ান আকাশে উড়ল, তখন ট্রাম্পের সামনে অপেক্ষা করছে এক অপ্রিয় বাস্তবতা। জীবনের নবম দশকে পা দিয়েই তাকে ছুটতে হচ্ছে ফ্রান্সের ইভিয়ঁ-লে-বেঁ-এ, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে সেই সব ইউরোপীয় নেতাদের মুখোমুখি হতে, যাদের সাথে তার দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক।

রোববার রাতে ইউএফসি লড়াইয়ে গলা ফাটানোর কারণে সোমবার  সকালে ট্রাম্পের গলার আওয়াজ ছিল বেশ ভাঙা। আর এদিকে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে উৎসব-পরবর্তী ধস্তাধস্তির অবসান। হোয়াইট হাউসের লনে বসানো বিশাল আলোর রোশনাই আর মঞ্চ খুলে ফেলার কাজ চলছে জোরকদমে। শুধু তা-ই নয়, ওয়াশিংটনের পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে জন এফ কেনেডির নামের পাশে ট্রাম্প নিজের নাম খোদাই করার যে চেষ্টা করেছিলেন, এক বিচারকের আদেশে সোমবারই তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে সাদা তার্পিলিন দিয়ে। যদিও কর্তৃপক্ষ একে মার্বেল পাথরের মেরামত কাজ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া ন্যাশনাল মলে অবস্থিত রিফ্লেক্টিং পুলের তলাটি নতুন করে নীল রঙ করার পর সেখানে শ্যাওলার আস্তরণ পড়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিনা-টেন্ডারের এক দুর্নীতির কেলেঙ্কারি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

দেশের মাটিতে নানা সমস্যা যখন স্তূপাকার হচ্ছে, তখন ফ্রান্সের লেক জেনেভার শান্ত ও অভিজাত শহর ইভিয়ঁ-লে-বেঁ-এর পরিবেশও ট্রাম্পের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। ইরানের সাথে ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করা শান্তি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার পারদ চড়ছে। ট্রাম্প একে এক ‘শক্তিশালী ঐতিহাসিক দলিল’ বলে দাবি করলেও খোদ ওয়াশিংটনেই রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আমাদের সবার মনেই প্রশ্ন আছে, কারণ চুক্তিটি এখনও কেউ চোখেই দেখেনি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক সই হওয়ার আগে এই চুক্তি গোপন রাখার কৌশল কতদিন টিকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ লাগিয়ে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের সংকট তৈরি করেছিলেন, এখন তিনি কেবল সেটুকুরই সমাধান করেছেন; কিন্তু ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো মূল সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। যদিও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, দেড় পাতার এই সাধারণ খসড়া চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে।

ম্যাক্রোঁর ‘ভার্সাই’ টোপ ও ট্রাম্পের হুমকি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জি-৭ জোটের সম্পর্ক কোনোদিনই মধুর ছিল না। এর আগে ২০১৮ সালে কানাডা সম্মেলন চলাকালীন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সাথে তার প্রকাশ্য বিরোধ বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল। এবারও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের হুট করে সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ার স্বভাব রুখতে এক রাজকীয় চাল চেলেছেন। ট্রাম্পের জাঁকজমকপ্রীতিকে মাথায় রেখে আগামী বুধবার ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে এক বিলাসবহুল নৈশভোজের আয়োজন করেছেন ম্যাক্রোঁ, যেখানে আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসও উদযাপন করা হবে।

ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়ন একসময় ভালো থাকলেও ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। ইভিয়ঁ-এ সাক্ষাতের সময় ম্যাক্রোঁ যখন ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান, তখন ট্রাম্পের চোখে-মুখে এক প্রকার একঘেয়েমি স্পষ্ট ছিল। কয়েক মাস আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যাক্রোঁর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ঠাট্টা করা ট্রাম্প অবশ্য সৌজন্যতার খাতিরে এবার ম্যাক্রোঁকে ‘বিশেষ বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। তবে ভেতরে ভেতরে অন্য আগুন জ্বলছে। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর ফ্রান্স যদি ডিজিটাল ট্যাক্স বা কর আরোপ করে, তবে ফরাসি শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং জাপানের মতো পরাশক্তিগুলোর এই ক্লাবে আরও বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে যাদের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে, সেই মিত্র দেশগুলোকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি ওয়াশিংটন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইতিমধ্যেই মধ্যম সারির দেশগুলোকে ট্রাম্পের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার ট্রাম্পীয় খামখেয়ালি দাবি এবং একের পর এক শুল্ক যুদ্ধ ইউরোপীয়দের মনে এই ধারণাই পোক্ত করছে, ট্রাম্পের আমেরিকা আর কোনো নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়, বরং এক প্রকার প্রতিপক্ষ।

একই সাথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথেও ট্রাম্পের মুখোমুখি বৈঠক উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার স্টারমারের সাম্প্রতিক ঘোষণা ট্রাম্পের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি-মোগল বন্ধুদের চটিয়েছে। তাছাড়া, চলতি মাসের শুরুতে ইংল্যান্ডে এক কলেজ ছাত্রের ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনাকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যখন ‘অভিবাসীদের গণ-অনুপ্রবেশ’ বলে টুইট করেছিলেন, তখন ব্রিটিশ সরকার তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

/কহু


  বিষয়:   হোয়াইট হাউস  কুস্তি  জি-৭  সম্মেলন  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: