ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির জোরালো আভাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তেল ব্যবসায়ীদের আশা, দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে শিগ্গিরই একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববাজারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। গত ৩ মার্চের পর বিশ্ববাজারে এটিই অপরিশোধিত তেলের সর্বনিম্ন দামের রেকর্ড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে আজ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১৫ ডলার কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতার আবহের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের তেলের ট্যাংকারগুলো ফের আন্তর্জাতিক জলসীমায় স্বাভাবিক চলাচল শুরু করেছে। এই খবরটি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ইরানি তেল ট্যাংকার বর্তমানে উত্তর ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্যবাহী আরও দুটি ট্যাংকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
এদিকে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবারের মধ্যে ফের উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
ইউরোপীয় নেতাদের মনে কিছুটা সংশয় থাকলেও বিশ্ববাজার আপাতত শান্তি চুক্তির এই সম্ভাবনাকেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে, যার সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতনের মাধ্যমে।
সময়ের আলো/জেডি