বাংলাদেশকে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে চায় স্পেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

স্পেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও

2026-06-17T20:21:34+00:00
2026-06-17T20:37:36+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশকে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে চায় স্পেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:২১ পিএম  আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ৮:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ১৯)
বাংলাদেশ ও স্পেনের পতাকা। সংগৃহীত ছবি
স্পেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রোটোকল চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপের দেশটি। 

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) কাঠামোর আদলে বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ঋণ, কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং অনুরূপ কার্যক্রমে অর্থায়ন করবে স্পেন। 

তবে স্পেন প্রস্তাব করেছে, তাদের দেওয়া ক্রেডিট লাইনের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে স্প্যানিশ কোম্পানিগুলোকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি এসব প্রকল্পে স্প্যানিশ পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সম্প্রতি সরকারের কাছে এ প্রস্তাব দেয় স্পেন। প্রস্তাবটি সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা। 

সাক্ষাৎকালে তারা উভয়ই মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ পরবর্তী বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও দুই দেশের জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন, তৈরি পোশাক রফতানি, এলএনজি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় স্পিকার বলেন, স্পেন সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ চুক্তির একটি খসড়াও তৈরি করেছে। বর্তমানে ওই খসড়ার ওপর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হচ্ছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের চুক্তি রয়েছে। তুরস্কও একই ধরনের চুক্তির প্রস্তাব করেছিল, তবে বাংলাদেশ এখনো তাতে সম্মতি দেয়নি। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থায়নের নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাইকার মতো বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোও বাণিজ্যিক সুদহার আরোপের প্রস্তাব করছে।

জানা গেছে, পরিবহন অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো, টেলিকমিউনিকেশনস খাত, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষি-খাদ্যশিল্প, উদ্ভাবন, ডিজিটাইজেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ক কাঠামোগত প্রোটোকলটি সাজানো হয়েছে। এর বাইরে দুই দেশ সম্মত হলে অন্য যেকোনো খাতেও অর্থায়ন করতে পারবে স্পেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব খাতে বাংলাদেশের অর্থায়নের চাহিদা রয়েছে। ফলে এ চুক্তি থেকে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন সহজ হবে। অন্যদিকে স্প্যানিশ কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, স্পেন ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে এ ধরনের একটি চুক্তির প্রস্তাব করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর আলোচনা আর এগোয়নি। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটি আবার প্রস্তাব দিয়েছে। 

খসড়া চুক্তিতে একটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতি বছর অথবা যেকোনো এক পক্ষের অনুরোধে বৈঠক করবে। গ্রুপের বৈঠকে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। চুক্তির আওতায় নেওয়া ঋণের অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ কোনো প্রকল্পের পণ্য ও সেবার শুল্ক, কর বা অন্য কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ করতে পারবে না। ঋণ হবে সার্বভৌম গ্যারান্টিযুক্ত, যেখানে উভয় পক্ষ নিজ নিজ রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবে।


চুক্তিতে উভয় দেশ দুর্নীতি দমনে তাদের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক লেনদেনে কোনো তৃতীয় পক্ষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনৈতিক সুবিধা দিতে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা বেআইনি সুবিধা গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে স্পেন সরকার যেকোনো প্রকল্পের অর্থায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত, প্রত্যাহার কিংবা ঋণের অর্থ আগাম ফেরত চাইতে পারবে।

সাবেক একজন অর্থসচিব বলেন, শর্তযুক্ত ঋণ হওয়ায় স্প্যানিশ পণ্যের ওপর নির্ভরতা তৈরি হবে। তবে ইউরোপীয় উন্নত প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে এ চুক্তি বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্প বাছাই ও দরকষাকষিতে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সুদের হার ও শর্তগুলো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, বলেন তিনি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত, বাংলাদেশ থেকে স্পেনে ২.৮৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। প্রধান রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্য।  

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্পেন থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা ১৪৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছেন। স্পেন থেকে মূলত ক্যাপিটাল মেশিনারি, অলিভ অয়েল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তাদের এক প্রকাশনায় বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্পেনের সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত স্পেন থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ এসেছে ৮.৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা স্পেনের বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের তুলনায় খুবই সামান্য। 

২০২১ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল স্পেনের পরিবহন, গতিশীলতা ও নগর এজেন্ডা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করে। ওই সময় নুরুল ইসলাম সুজন স্পেনের তৎকালীন পরিবহন, গতিশীলতা ও নগর এজেন্ডা মন্ত্রী রাকেল সানচেজ খিমেনেজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে খিমেনেজ বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। 


/ইউএমএইচ
 




  বিষয়:   স্পেন  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: