ঋতুস্রাবের সময় কি নারীরা ইবাদত করতে পারবে, ইসলাম কী বলে

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ঋতুস্রাব নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়। ইসলাম নারীর এই শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিশেষ বিধান নির্ধারণ করেছে।

2026-06-18T09:33:31+00:00
2026-06-18T10:19:08+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
ইসলাম
ঋতুস্রাবের সময় কি নারীরা ইবাদত করতে পারবে, ইসলাম কী বলে
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম  আপডেট: ১৮.০৬.২০২৬ ১০:১৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঋতুস্রাব নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়। ইসলাম নারীর এই শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিশেষ বিধান নির্ধারণ করেছে। অনেক সময় দেখা যায়, ঋতুস্রাব শুরু হলে নারীরা মনে করেন যে, তারা যেন সব ধরনের ইবাদত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলেন। অথচ বাস্তবতা হলো, এ সময় কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আল্লাহর স্মরণ, জিকির ও দোয়ার দরজা তাদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকে।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ঋতুস্রাব চলাকালে নারীদের জন্য নামাজ আদায় করা এবং রোজা রাখা বৈধ নয়। এ সময় যে নামাজগুলো ছুটে যায়, সেগুলোর কাজা আদায় করতে হয় না। তবে রমজানের ফরজ রোজা ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হয়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এ বিধানের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ সময় কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। কারণ ঋতুস্রাবের কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায় এবং গোসল ফরজ অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। তবে কোরআনের যেসব আয়াত দোয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো দোয়ার নিয়তে পাঠ করা যেতে পারে। এছাড়া কোরআনের শিক্ষক হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনে আয়াতগুলো শব্দে শব্দে বা ভেঙে ভেঙে পড়ানোর সুযোগ রয়েছে।


তবে ঋতুস্রাবের সময় নারীরা ইবাদত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান না। বরং তারা বিভিন্ন ধরনের জিকির, তাসবিহ, দোয়া, দুরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারে মশগুল থাকতে পারেন। কালিমা তাইয়্যেবা, কালিমা শাহাদাত, কালিমা তাওহিদ, দুরুদ শরিফ, ইস্তিগফার এবং অন্যান্য মাসনুন দোয়া পাঠে কোনো বাধা নেই। এমনকি সকাল-সন্ধ্যার দোয়াগুলোও যথারীতি পড়া যাবে। কারণ এসব আমলের জন্য পবিত্র অবস্থায় থাকা শর্ত নয়।

নবীজি (সা.) সর্বদা আল্লাহর জিকির করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ তাই ঋতুস্রাবের সময় একজন নারী দোয়া, জিকির ও তাসবিহের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারেন।

এ ছাড়া আজানের জবাব দেওয়া, আল্লাহর প্রশংসা করা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং বিভিন্ন সময়ের মাসনুন দোয়া পাঠ করাও এ সময় বৈধ। হজের সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে কাবা শরিফের তাওয়াফ ছাড়া অন্যান্য হজের সব আমল যথারীতি সম্পন্ন করা যায়।


ঋতুস্রাব কোনো নারীর জন্য ইবাদতের পথ বন্ধ করে দেয় না, বরং এটি এমন একটি সময়, যখন তিনি নামাজ ও রোজার পরিবর্তে জিকির, দোয়া, তাসবিহ ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে পারেন। ইসলামের এই বিধান নারীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও সহজতার এক অনন্য নিদর্শন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   ঋতুস্রাব  নারী  সময়  আমল  ইসলাম  ধর্ম  বিধান  কোরআন  হাদিস 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: