মহান আল্লাহর অনুপম সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম সৃষ্টি মানবজাতি। মানুষের জন্য জগতের সবকিছু সাজিয়েছেন মহান আল্লাহ। মানুষের জন্য কল্যাণময় করে দিয়েছেন সব সৃষ্টিকে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনিই জমিনে যা আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সুরা বাকারা : ২৯)। মুমিনগণ আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণে সবসময় শুকরিয়া আদায় করে থাকেন। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে বেষ্টন করে রেখেছে মহান রবের অফুরন্ত নেয়ামত।
কিন্তু খুব কম লোকই সেই নেয়ামতগুলো উপলব্ধি করে এবং শুকরিয়া আদায় করে। মনে রাখবেন, আল্লাহর নেয়ামত বুঝতে পারাও তাঁর বিশেষ রহমত। আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে সুস্থতা একটি বড় নেয়ামত। এর যথাযথ ব্যবহার জরুরি। ঘরে পিতা-মাতা জীবিত থাকাও বড় নেয়ামত। কারণ তাদের সেবাতেই মিলবে পরকালীন সুখ। স্বামী-স্ত্রী হলো পরস্পর পরস্পরের জন্য বিশেষ নেয়ামত। আর দম্পতির কাছে সন্তান হলো উপহার, যা মহান রবের বিশেষ অনুগ্রহ।
অনেকে হতাশায় পড়ে যান এবং আফসোস করেন যে, আমার কিছুই নেই। অথচ কী নেই— সে নেয়ামত বুঝতে হলে নিজের নিম্নতম ব্যক্তির দিকে তাকালে উপলব্ধি করা সম্ভব। অনেক মানুষকে দেখা যায়, যারা নামাজে সেজদা দিতে অক্ষম। অথচ আপনি সেজদা করতে পারছেন। এর মানে আপনি আল্লাহর নেয়ামতে ডুবে আছেন। আপনি তিন বেলা খেতে পারছেন তা-ও আপনার জন্য নেয়ামত। কারণ অনেকের তিন বেলা খাবারও জুটে না।
আপনি পথ চলে কষ্ট করে দেহের ঘাম ঝরিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন সেটাও নেয়ামত। কারণ অনেকেই বিছানায় রোগে কাতরাচ্ছেন। আপনি সুন্দর করে কথা বলতে পারছেন এবং আল্লাহর দয়ায়-মায়ায় ঘেরা সব সৃষ্টি দেখতে পাচ্ছেন, তাই আপনি শুকরিয়া আদায় করুন। কারণ অনেকেই বোবা ও অন্ধ আছে। স্মরণ রাখা ভালো— বিলাসবহুল জীবনযাপনে ভরপুর নেয়ামত থাকে না, বরং শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারছেন সেটাই বড় নেয়ামত। যদি নেয়ামতের গণনা করতে যান, তা হলে এর কোনো শেষ নেই। যদি প্রশংসা করতে চান, তা হলে শেষ করতে পারবেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না।’ (সুরা ইবরাহিম : ৩৪)
পবিত্র কুরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘জমিনে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়, আর এক সমুদ্র (কালি হয়), তার সঙ্গে কালিতে পরিণত হয় আরও সাত সমুদ্র, তবু আল্লাহর নেয়ামতগুলো লেখা শেষ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সুরা লোকমান : ২৭)।
সুতরাং মহান রবের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর নেয়ামত এতই বেশি, যার জন্য মহান রব সুরা আর-রহমানে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ‘সুতরাং তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে তোমরা অস্বীকার করবে?’
একজন মুমিন কখনো রবের নেয়ামতের ক্ষেত্রে গাফিল হয় না এবং শুকরিয়া আদায়ে বিলম্ব করে না। প্রকৃত মুমিনগণ আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়ায় সেজদাবনত হন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে তাঁর নেয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে