প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ পিএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ২:১৮ পিএম
নবীজি (সা.)-এর নাম খোদাই করা ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদ। ছবি : সংগৃহীত সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলের আল-মাআল্লামাহ্ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে সন্ধান মিলেছে প্রায় ১৩০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদের। সৌদি হেরিটেজ কমিশনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের চতুর্থ মৌসুমে আবিষ্কৃত এই মসজিদটি হিজরি প্রথম শতাব্দীর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মসজিদটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পাওয়া গেছে কিবলার দেয়ালে। সেখানে পাথরে খোদাই করা রয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধা ও দরুদের একটি শিলালিপি। এতে লেখা রয়েছে:
‘অনন্ত রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর-যিনি পুণ্যবান, মনোনীত এবং সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব। হে সত্যের মাবুদ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আপনি আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন।’
গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মিত মসজিদটির স্থাপত্য ছিল তুলনামূলক সরল ও নির্মাণশৈলী ছিল যথেষ্ট নিখুঁত। এতে কিবলামুখী মেহরাব, প্রবেশদ্বার এবং একটি মিনারের অস্তিত্বের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মসজিদটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১০ মিটার।
মসজিদের চারপাশে পাথরের তৈরি বেশ কয়েকটি কক্ষও পাওয়া গেছে। খাদ্যশস্য সংরক্ষণের পাত্র, পানির আধার, পাথরের গৃহস্থালি সামগ্রী, মাটির পাত্রের ভগ্নাংশ, শস্য পেষার জাঁতা ও হামানদিস্তা থেকে সে সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া খননস্থলে সোনা, রুপা ও তামা উত্তোলনের প্রাচীন নিদর্শনও মিলেছে। এসব আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম ইসলামি যুগে আল-মাআল্লামাহ্ শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের স্থান ছিল না; বরং হস্তশিল্পী, বণিক ও শ্রমিকদের উপস্থিতির কারণে এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ধাতব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও ছিল।
সৌদি হেরিটেজ কমিশনের মতে, মসজিদ ও এর আশপাশ থেকে পাওয়া এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রথম ইসলামি যুগের মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরছে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী মাটির নিচে থাকা সেই শিলালিপি আজও যেন প্রাচীন মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতি ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাদের শ্রদ্ধার এক ঐতিহাসিক স্মারক হয়ে আছে।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
সময়ের আলো/মহু