দরুদ শরিফ মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

জীবনের ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও নানা অনিশ্চয়তার মাঝে মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম হতে পারে আল্লাহর স্মরণ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর

2026-09-17T09:17:58+00:00
2026-09-17T09:17:58+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
দরুদ শরিফ মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৭ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
জীবনের ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও নানা অনিশ্চয়তার মাঝে মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম হতে পারে আল্লাহর স্মরণ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ। দরুদ শরিফ শুধু একটি আমল নয়, এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশেরও একটি সুন্দর মাধ্যম। নিয়মিত দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর রহমত কামনা করেন এবং নিজের অন্তরকে আরও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান। হে ইমানদারগণ, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাও এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)

দরুদ পাঠের অন্যতম বড় ফজিলত হলো আল্লাহর রহমত লাভ। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন, তার ১০টি গুনাহ মাফ করা হবে এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।’ (সুনানে নাসায়ি)

এই হাদিস মুমিনকে বেশি বেশি দরুদ পাঠে উৎসাহিত করে। কারণ দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের প্রত্যাশা করা যায়। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও তাই কিছু সময় দরুদ পাঠের জন্য রাখা যেতে পারে।


দুশ্চিন্তায় প্রশান্তির আমল

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, বিপদ ও নানা অনিশ্চয়তা আসতেই পারে। এমন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সাহায্য চাওয়া মুমিনের পথ। দরুদ শরিফও হতে পারে সেই আমলের একটি অংশ।

উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বর্ণিত ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তিনি যখন জানান, তাঁর দোয়ার একটি বড় অংশ দরুদ পাঠে ব্যয় করবেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এতে তাঁর দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

দুশ্চিন্তার সময়ে দরুদ পাঠ তাই একজন মুমিনকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশায় নিজেকে সঁপে দিতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

দোয়ার সঙ্গে দরুদের সম্পর্ক

দোয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদব হলো আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ। দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পাঠ করার কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে পর্যন্ত তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠ না করবে, সে পর্যন্ত যেকোনো দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, ওপরে ওঠে না।’ (জামে তিরমিজি)

তাই নিজের প্রয়োজন, আশা কিংবা দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় দরুদ পাঠ করা সুন্দর একটি আমল। এতে দোয়ার সঙ্গে নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশও ঘটে।

দরুদ পাঠের ফজিলতের সঙ্গে আখিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুসংবাদও জড়িয়ে আছে। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি সে-ই হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে।’ (তিরমিজি)

কিয়ামতের কঠিন দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নৈকট্য লাভ মুমিনের বড় আকাঙ্ক্ষা। তাই নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করাও গুরুত্বপূর্ণ আমল।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না।’ (তিরমিজি)

তাই নবীজি (সা.)-এর নাম শুনলে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল। এর মাধ্যমে নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়।


ব্যস্ত জীবনেও দরুদ পাঠের অভ্যাস

দরুদ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। অজু অবস্থায় পবিত্র স্থানে বসে দরুদ পাঠ করা উত্তম হলেও হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়েও এটি পাঠ করা যায়। প্রতিদিনের জীবনে নিয়মিত দরুদ পাঠের একটি অভ্যাস গড়ে তুললে তা ধীরে ধীরে মুমিনের দৈনন্দিন আমলের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

দরুদ শরিফের সৌন্দর্য এখানেই— এটি মুমিনকে আল্লাহর রহমতের কথা স্মরণ করায়, নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা বাড়ায় এবং হৃদয়কে আখিরাতের প্রতি আরও মনোযোগী করে। জীবনের নানা ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও তাই দরুদ হয়ে উঠতে পারে আত্মশুদ্ধি ও প্রশান্তির একটি বরকতময় আমল।

মুমিনের হৃদয়ে যখন আল্লাহর স্মরণ ও নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা জাগ্রত থাকে, তখন জীবনের কঠিন সময়েও আশা ও প্রশান্তির আলো খুঁজে পাওয়া যায়। সেই সুন্দর অনুভূতির পথে নিয়মিত দরুদ পাঠ হতে পারে এক সহজ ও বরকতময় আমল।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   দরুদ শরিফ  মুমিন  আমল  ইসলাম 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: