জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে ১২ আমল করবেন

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

জীবন যখন অগোছালো হয়ে পড়ে, তখন শুধু সময়ের হিসাবই এলোমেলো হয় না, বরং এর প্রভাব পড়ে ইবাদত, কাজ, পরিবার, দায়িত্ববোধ

2026-09-15T20:58:20+00:00
2026-09-15T20:58:20+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে ১২ আমল করবেন
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম 
পবিত্র কোরআন শরীফ। ছবি : সংগৃহীত
জীবন যখন অগোছালো হয়ে পড়ে, তখন শুধু সময়ের হিসাবই এলোমেলো হয় না, বরং এর প্রভাব পড়ে ইবাদত, কাজ, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক প্রশান্তির ওপরও। কখন ঘুমাব, কখন উঠব, কখন কাজ করব কিংবা কখন বিশ্রাম নেব—এসবের নির্দিষ্টতা না থাকলে ধীরে ধীরে নিজের জীবন পরিচালনার নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে যেতে পারে।

ইসলাম মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও সময়ের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইবাদত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন—সব ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা রয়েছে। তাই একজন মুমিন চাইলে কিছু ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের কেন্দ্র বানান

জীবনকে নিয়মের মধ্যে আনার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। দিনের নির্দিষ্ট পাঁচ সময়ে নামাজ আদায় করতে হয়। এতে সময়ের প্রতি সচেতনতা তৈরি হয় এবং পুরো দিনের কাজেও একটি ছন্দ আসে।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)

আল্লাহর স্মরণ দিয়ে দিন শুরু করুন

সকালের শুরুটা পুরো দিনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত না থেকে নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে দিন শুরু করা ভালো। এতে মনও প্রশান্ত থাকে, দিনের কাজেও মনোযোগ বাড়ে।

আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)


প্রতিদিন অল্প হলেও কোরআন পড়ুন

অনেকে একসঙ্গে অনেক কোরআন পড়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কয়েক দিন পর সেই অভ্যাস আর ধরে রাখা সম্ভব হয় না। এর চেয়ে প্রতিদিন অল্প সময় কোরআন পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা অল্প হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৪-৬৪৬৫)

দিনের কাজ আগে থেকে ঠিক করুন

সময়কে কাজে লাগাতে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে থেকে ঠিক করে রাখা যেতে পারে। নামাজ, ঘুম, পড়াশোনা, কর্মস্থল, পরিবার ও বিশ্রামের জন্য মোটামুটি একটি সময় নির্ধারণ করলে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট হওয়ার সুযোগ কমে।

আল্লাহ বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’ (সুরা আসর, আয়াত : ১-২)

অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা এড়িয়ে চলুন

জীবন অগোছালো হওয়ার পেছনে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততাও বড় কারণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, অনর্থক ভিডিও দেখা, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা কিংবা অন্যের বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা মূল্যবান সময় নষ্ট করে।

আল্লাহ সফল মুমিনদের গুণ বর্ণনা করে বলেন, ‘আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৩)

ঘুম ও জাগরণের সময় ঠিক রাখুন

অনিয়মিত ঘুম ও অতিরিক্ত রাত জাগা শরীর, কর্মক্ষমতা এবং ইবাদতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভব হলে রাতে যথাসময়ে ঘুমানো এবং ফজরের সময় জাগার অভ্যাস করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে দিনের সময়কে কাজে লাগানোও সুশৃঙ্খল জীবনের অংশ।

ছোট ছোট আমলকে নিয়মিত করুন

একসঙ্গে অনেক আমল শুরু করে কয়েক দিন পর সব ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করা ভালো। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির, ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠ, সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজ এবং নিয়মিত সদকার মতো আমল ধীরে ধীরে জীবনের অংশ করা যায়।

ঘুমানোর আগে দিনের আমলের হিসাব নেওয়ার অভ্যাসও আত্মশুদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিদিন নিজের হিসাব নিন

দিন শেষে কয়েক মিনিট নিজের কাজের হিসাব নেওয়া যেতে পারে। আজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কেমন হয়েছে? কোথায় সময় নষ্ট করেছি? কারও সঙ্গে অন্যায় করেছি কি না? আজ কী ভালো কাজ করেছি? আগামীকাল কোন ভুলটি সংশোধন করা দরকার?

আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে, সে আগামীকালের জন্য কী পাঠিয়েছে।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ১৮)


তওবা ও ইস্তিগফার করুন

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত। নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফারের অভ্যাস মানুষকে নিজের ভুল সম্পর্কে সচেতন করে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

ভালো মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

মানুষের অভ্যাস ও চরিত্র গঠনে তার আশপাশের মানুষের বড় প্রভাব থাকে। যারা সময়ের মূল্য বোঝেন, নামাজের ব্যাপারে সচেতন, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু—তাদের সঙ্গে থাকলে নিজের মধ্যেও ভালো অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে অলসতা, সময় অপচয় ও অনর্থক কাজে অভ্যস্ত মানুষের সঙ্গ নিজের জীবনকেও অগোছালো করে তুলতে পারে।

কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রাখুন

শৃঙ্খলিত জীবন মানে সারাক্ষণ কাজ করে যাওয়া নয়। ইসলাম ইবাদত, কাজ, পরিবার ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রাখার শিক্ষা দেয়। নিজের সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত আমল বা কাজের চাপ নেওয়াও ঠিক নয়।

তাই এমন একটি রুটিন তৈরি করা উচিত, যা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবভাবে পালন করা সম্ভব। একদিনের কঠিন রুটিনের চেয়ে প্রতিদিনের সহজ ও নিয়মিত অভ্যাস অনেক বেশি কার্যকর।

প্রতিদিন একটি ভালো কাজের লক্ষ্য রাখুন

জীবনে বড় পরিবর্তন অনেক সময় ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমেই আসে। প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করার ইচ্ছে করা যেতে পারে। কাউকে সাহায্য করা, সদকা করা, বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়া, কারও কষ্ট দূর করা, কোনো গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা কিংবা কাউকে ভালো কথা বলাও হতে পারে সেই ভালো কাজ।


জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাই বড় কোনো দিনের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আজ থেকেই ছোট একটি ভালো অভ্যাস শুরু করা এবং সেটিকে নিয়মিত করে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আল্লাহর কাছে এমন আমলই বেশি প্রিয়, যা অল্প হলেও নিয়মিত করা হয়। নিয়মিত ছোট ছোট আমলই একসময় মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আল্লাহমুখী করে তুলতে পারে।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   জীবন  শৃঙ্খলা  আমল  ইসলাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: