ইসলামের পরিভাষায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে এক বা একাধিক রাকাত ছুটে যাওয়া ব্যক্তিকে মাসবুক বলা হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি জামাতে দেরিতে যোগ দিয়ে ইমামের সঙ্গে কিছু রাকাত বা সম্পূর্ণ নামাজ না পায়, তা হলে তাকে বলা হয় ‘মাসবুক’। মাসবুক ব্যক্তির বিধান হলো, সে ইমামের সঙ্গে শরিক হয়ে যাবে এবং সালাম ফেরানোর পর দাঁড়াবে।
ইমামের সঙ্গে পাওয়া অংশটি তার নামাজের প্রথম অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং ছুটে যাওয়া অংশ একা একা পূর্ণ করবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা ইকামত শুনবে, তখন নামাজের দিকে হেঁটে যাও এবং তোমাদের ওপর শান্ত ও গম্ভীর ভাব বজায় রাখা আবশ্যক। দৌড়ে এসো না। অতঃপর ইমামের সঙ্গে যতটুকু পাও তা আদায় করো এবং যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করো’ (বুখারি : ৬৩৬)। এই হাদিস থেকে বুঝে আসে, জামাত শুরু হয়ে গেলে তাড়াহুড়ো বা দৌড়াদৌড়ি না করে ধীরস্থিরভাবে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজে শরিক হতে হবে এবং তাতে কিছু অংশ ছুটে গেলেও পরবর্তীতে তা পূর্ণ করবে।
নামাজে যোগদানের নিয়ম তাকবিরে তাহরিমা বলে ইমামের সঙ্গে শরিক হবে। ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায়ই শরিক হবে। রাকাত পাওয়ার বিষয়টি হলো কোনো ব্যক্তি যদি সন্দেহ ছাড়া রুকু পায় তা হলে রাকাত পাওয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের একটি রাকাত (ইমামের সঙ্গে রুকু) পেল, সে মূলত পুরো নামাজটিই পেয়ে গেল’ (বুখারি : ৫৮০)।
যদি ইমামকে সেজদায় পায় তবে ইমামের সঙ্গে সেজদায় শরিক হয়ে যাওয়াই নিয়ম। ইমামের সেজদা থেকে উঠার অপেক্ষা করা ঠিক নয়। হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে আসে তখন ইমামকে যে অবস্থায় পায় সে যেন তাই করে (অর্থাৎ যে অবস্থায়ই ইমামকে পাবে জামাতে শরিক হয়ে যাবে)’ (তিরমিজি : ৫৯১)। তবে এভাবে সেজদায় শরিক হওয়ার দ্বারা রাকাত পাওয়া যায় না।
ইমামের সঙ্গে শেষ বৈঠকে শরিক হলে শুধু তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়বে, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়বে না। ইমাম উভয় দিকে সালাম ফেরানোর পর নিজের ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে। আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল হলো ইমাম এক সালাম ফেরানোর পর মাসবুক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় ছুটে যাওয়া রাকাত পূর্ণ করার জন্য। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভুল নিয়ম।
ইমাম দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পরেই মাসবুক ব্যক্তি দাঁড়াবে। ছুটে যাওয়া রাকাত পূর্ণ করার নিয়ম হলো, যে রাকাতগুলো ছুটে গেছে, সেগুলোতে সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা), আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা এবং অন্য সুরা মিলাতে হবে। যদি দুই বা ততোধিক রাকাত ছুটে যায়, তবে প্রথম দুই রাকাতে সুরা মেলাবে এবং পরের রাকাতগুলোতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়বে। বৈঠকে নিয়ম অনুযায়ী তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নামাজ সুন্দর করার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তওফিক দান করুন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, দোহা, কাতার
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে/এমকে